প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্তব্য 'শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করে দিয়েছেন' ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। এতে দেশটির বিভিন্ন বিরোধী দল একযোগে মোদির ওপর আক্রমণ শানিয়েছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, মোদির ক্ষমা দেয়ার কথা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের কাছে তার ক্ষমা চাওয়া উচিত।
আলাপে উঠে এসেছে, শিক্ষার্থীদের 'ক্ষমা করে দেওয়ার' মন্তব্যের পর অসন্তোষ প্রকাশ করে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি মোদিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে।
লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেন, "শিক্ষার্থীদের তার ক্ষমার প্রয়োজন নেই; বরং দুর্নীতিগ্রস্ত পরীক্ষাব্যবস্থা উপহার দেওয়ার কারণে মোদিরই শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।"
গৃহীত বিবৃতিতে তিনি গত শুক্রবার গভীর রাতে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওর কথা উল্লেখ করেন। ভিডিওটিতে মোদি সমাজে তৈরি হওয়া ক্ষোভ বুঝতে পারছেন বলে জানান এবং তরুণদের সঠিক পথে আনার আহ্বান জানান।
মোদি উল্লেখ করেন, “আমি তাদের ক্ষমা করে দিতে চাই। মানুষ ভুল করতেই পারে। কিন্তু আমাদের মেয়েরা যে এত অশালীন ভাষা ব্যবহার করছে, এটি সাংস্কৃতিকভাবে হতাশাজনক।” তিনি এ মন্তব্য করেন জন্তর মন্তরের বিক্ষোভের সময়, যেখানে আন্দোলনকারীরা মোদিকে লক্ষ্য করে গালাগালিসহ আপত্তিকর ভাষার ব্যবহার করেছেন। মোদি জানান, “জন্তর মন্তরে শুধু আমাকে নয়, আমার প্রয়াত মাকেও গালিগালাজ করা হয়েছে।”
এর আগে, এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, “সন্তান হারানোর শোকের চেয়ে বড় কষ্ট আর কিছু হতে পারে না। প্রতিটি তরুণ প্রাণ ঝরে যাওয়ার পেছনে একটি পরিবার রয়েছে, যারা আজীবন সেই বেদনা বয়ে বেড়াবে।”
তিনি তামিলনাড়ু সফরে সন্তান হারানো কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর এসব উপলব্ধি করেন এবং শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে, পরীক্ষা বাতিল হয়েছে, বছরের পর বছর ধরে নেওয়া প্রস্তুতি এক রাতেই নষ্ট হয়ে গেছে।"
রাহুল আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের বলা হচ্ছে সৎভাবে পরিশ্রম করতে, অথচ পুরো ব্যবস্থাই অসৎ। এর মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষার্থীদের 'ক্ষমা' করার কথা বলছেন।”
তিনি অভিযোগ করেন, “তিনি (মোদি) একজন শোকাহত অভিভাবকের সঙ্গেও দেখা করেননি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাওয়া একজন শিক্ষার্থীর পাশেও বসেননি। ভারতের শিক্ষার্থীদের তার ক্ষমার প্রয়োজন নেই; তাদের কাছে তার ক্ষমা চাওয়া উচিত।”
এদিকে কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি চিদাম্বরমও প্রশ্ন তুলে বলেন, “সরকারের সমালোচনা করলেই যারা এক্সে অশালীন মন্তব্য করে, সেই বিজেপি সমর্থকদেরও কি প্রধানমন্ত্রী ক্ষমা করে দিয়েছেন?”
কংগ্রেস নেতা পবন খেরা বলেন, “দেশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি করছিল, কিন্তু তিনি উল্টো দেশকেই ক্ষমা করে দিলেন।”
সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব মন্তব্য করেন, “জনগণ কখনওই বিজেপিকে ক্ষমা করবে না। বিজেপি যদি মাটিতে শুয়ে ক্ষমাও চায়, তবুও মানুষ তাদের ক্ষমা করবে না। জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি তারা রাখেনি। তাদের এই অহংকারই একদিন সরকার পতনের কারণ হবে।”
শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা উদ্ধব ঠাকরে বলেন, “মোদি এবং (কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত) শাহর শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। কারণ, শিক্ষার্থীদের পেরেক লাগানো লাঠি দিয়ে পেটানো হয়েছে, পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছে, টিয়ার গ্যাস ছোড়া হয়েছে। এমনকি নারী আন্দোলনকারীদের পোশাকও ছিঁড়ে ফেলেছেন কিছু পুরুষ পুলিশ সদস্য।”
এদিকে মোদি সরকারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। সরকারের দাবি, তারা জবাবদিহি এড়িয়ে যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে পাবলিক এক্সামিনেশনস (সংশোধনী) বিল পাস করা হয়েছে এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে একটি টাস্কফোর্সও গঠন করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকার আরও জানিয়েছে, সংসদে তথ্যভিত্তিক ও সুস্থ বিতর্কে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অখিলেশ যাদব ও কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যও সংসদে এ বিষয়ে আলোচনার পক্ষে ছিলেন। তবে 'একজন ব্যক্তির অহংকারের কারণে' তা সম্ভব হয়নি।
বিজেপি নেতা মুখতার আব্বাস নাকভি অভিযোগ করে বলেন, “একদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সংবেদনশীলতা, অন্যদিকে এই সামন্তবাদী নেতাদের অহংকার স্পষ্ট। তাদের আচরণে হতাশা ও নিরাশার প্রতিফলন ঘটছে।” সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন