প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ফুসলিয়ে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রিয়া আক্তার (২৪) নামে এক নারীকে আটক করে উত্তেজিত জনতা গণধোলাই করেছেন।
পরে, ওই নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার পথে জনতার ইটপাটকেল ও হামলায় চার পুলিশ সদস্য আহত হন। এ সময় পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানও ভাঙচুর করা হয়।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে কটিয়াদী পৌরসভার বেথইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।
আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন—কটিয়াদী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ রানা, কনস্টেবল আতাউর রহমান, কনস্টেবল সারোয়ার হোসেন এবং কনস্টেবল আল আমিন। আহত পুলিশ সদস্য, উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থী ইলমা আক্তার এবং আটক প্রিয়া আক্তারকে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আটক প্রিয়া আক্তার বাজিতপুর উপজেলার দিঘিরপাড় গ্রামের টিপু মিয়ার স্ত্রী। উদ্ধার হওয়া শিশু ইলমা আক্তার বেথইর মহল্লার জামাল মিয়ার কন্যা।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কিশোয়ার সুলতানা জানিয়েছেন, দুপুরের দিকে বিদ্যালয়ের সামনে কয়েকজন শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় কালো বোরকা পরা এক নারী এসে শিক্ষার্থীদের নাম ধরে ডাকতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি ইলমাকে ‘তোমার বাবা দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন’ বলে ফুসলিয়ে বিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় সহপাঠীদের নজরে আসলে তারা দৌড়ে গিয়ে শিক্ষক ও দপ্তরিকে জানায়। খবর পেয়ে শিশুটির বাবাসহ স্থানীয়রা খুঁজতে বের হন।
পরে বিদ্যালয় থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে পিপুলিয়া এলাকায় একটি অটোরিকশা থেকে শিশু ইলমাকে উদ্ধার করা হয় এবং ওই নারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এরপর বিক্ষুব্ধ জনতা ওই নারীকে মারধর করে বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে আটকে রাখেন।
উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থী ইলমা আক্তার জানিয়েছেন, ওই নারী তাকে ভুল বুঝিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, কারণ তিনি বলেছিলেন যে তার বাবা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। অটোরিকশায় তোলার পর ওই নারী তার কানের দুল খুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
খবর পেয়ে কটিয়াদী মডেল থানার এসআই মাসুদ রানার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ অবরুদ্ধ নারীকে উদ্ধার করে পিকআপে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা লাঠিসোটা ও ইটপাটকেল নিয়ে হামলা চালায়। এতে চার পুলিশ সদস্য আহত হন এবং পুলিশের গাড়ির সামনের গ্লাস ও বাম্পার ভেঙে যায়।
কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মিঠুন রানা জানিয়েছেন, আহত চার পুলিশ সদস্য, শিশু শিক্ষার্থী এবং আটক নারী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তারা সবাই আশঙ্কামুক্ত।
হামলায় আহত এসআই মো. মাসুদ রানা বলেন, "খবর পেয়ে অবরুদ্ধ ওই নারীকে উদ্ধার করে আনার সময় উত্তেজিত জনতা ফের মারধরের চেষ্টা করে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমিসহ চারজন পুলিশ সদস্য আহত হই এবং গাড়ির ক্ষতি হয়। এ ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন