প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশালের বাংলাবাজারে ব্যবসায়ী সবুজকে ঘিরে নকল পণ্য, ব্যবসায়িক অনিয়ম ও সম্পদ অর্জন নিয়ে অভিযোগ, কয়েকটি বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত।
একসময় আর্থিকভাবে সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকা সবুজ কীভাবে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সম্পদ ও বিত্ত-বৈভবের মালিক হলেন, তা নিয়ে বরিশাল নগরীর বাংলাবাজার ও সংলগ্ন এলাকায় নানা প্রশ্ন ও আলোচনা রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ এবং প্রাপ্ত বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে ‘তালাশ বিডি’। অনুসন্ধানের প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যবসায়িক লেনদেন, পণ্যের মান, সম্পদ অর্জন এবং আরও কয়েকটি অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের সবকটির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শৈশবেই পিতাকে হারান সবুজ। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি নানার এক ভাইয়ের আশ্রয়ে বেড়ে ওঠেন বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে।
পরবর্তী সময়ে তার চাচাতো মামা বিপ্লবের স্যানিটারি সামগ্রীর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন সবুজ। দীর্ঘ সময় তিনি ওই ব্যবসার বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য।
তবে একপর্যায়ে ব্যবসার হিসাব-নিকাশ ও মালামাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যবসার জমা-খরচের হিসাব এবং কিছু মালামালের বিষয়ে প্রশ্ন ওঠার পর সবুজ ও তার মামা বিপ্লবের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।
এ নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে অভিযোগও করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে সবুজকে ওই ব্যবসা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
তবে ওই সময়ের ঘটনাগুলো সম্পর্কে অভিযুক্ত পক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য এই প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে ইলেকট্রিক পণ্যের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সবুজ কীভাবে অল্প সময়ে উল্লেখযোগ্য সম্পদের মালিক হলেন, এ বিষয়টি নিয়েই স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।
বাংলাবাজার এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, পুরান ঢাকার নবাবপুর থেকে নিম্নমানের বা নামসর্বস্ব ব্র্যান্ডের কিছু ইলেকট্রিক পণ্য সংগ্রহ করে সেগুলো বরিশালের বাজারে বিক্রি করা হয়।
তাদের আরও অভিযোগ, কিছু পণ্য ক্রেতাদের কাছে মূল বা উন্নতমানের পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়ে থাকতে পারে।
তবে এসব পণ্য প্রকৃতপক্ষে নকল বা ভেজাল কি না, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পণ্যের নমুনা পরীক্ষা এবং প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে ‘তালাশ বিডি’র অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
‘তালাশ বিডি’র অনুসন্ধানী টিম সবুজের ব্যবসা, সম্পদ এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে।
অনুসন্ধানে বরিশালের রূপাতলী ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট সংলগ্ন এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট কেনার তথ্য পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। একইসঙ্গে ওই এলাকায় জমি বা অন্যান্য সম্পদ ক্রয়ের বিষয়েও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
এসব সম্পদ সবুজের নিজ নামে, নাকি অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে এবং এগুলোর অর্থের উৎস কী, তা নিশ্চিত করতে দলিলপত্র, রেজিস্ট্রি ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই প্রয়োজন।
সবুজের ইলেকট্রিক মালামাল সংরক্ষণের একটি গোডাউনকে ঘিরেও একটি গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
একটি বিশেষ সূত্রের দাবি, ওই গোডাউনকে ব্যবহার করে গোপনে মাদকের চালান সংক্রান্ত লেনদেন করা হয়ে থাকে।
তবে এই অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এখনো ‘তালাশ বিডি’র হাতে আসেনি। ফলে বিষয়টিকে এই মুহূর্তে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না।
অভিযোগটির সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট স্থান, সময়, ব্যক্তি ও নথিপত্র সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।
## *অভিযোগের বিষয়ে সবুজের বক্তব্য*
প্রতিবেদন প্রকাশের আগে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত সবুজের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি কোনো সাড়া দেননি।
তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।
## *যেসব বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে*
সবুজের অল্প সময়ে সম্পদ বৃদ্ধির উৎস, ইলেকট্রিক পণ্যের প্রকৃত মান ও উৎস, নিম্নমানের বা নকল পণ্য আসল পণ্য হিসেবে বিক্রির অভিযোগ, ব্যবসায়িক লেনদেন ও হিসাব-নিকাশ নিয়ে পূর্বের বিরোধ এবং রূপাতলী ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট সংলগ্ন এলাকায় জমি ও ফ্ল্যাট কেনার তথ্য যাচাই করছে ‘তালাশ বিডি’।
একইসঙ্গে এসব সম্পদের মালিকানা ও অর্থের উৎস, গোডাউনকে ঘিরে ওঠা মাদকসংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা এবং এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উপরোক্ত বিষয়গুলোর কোনোটি এখনো আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করছে না ‘তালাশ বিডি’। অভিযোগ, নথি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য যাচাই করেই অনুসন্ধান এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী পর্বে আরও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে।
তালাশ বিডির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তৃতীয় পর্ব আসছে খুব শিগগিরই…
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন