প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার কমে আসার কারণে বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতে ভারতীয় রুপির মূল্য বাড়তে পারে। এর আগে, দেশটিতে মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হওয়ায় বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে, চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখন কম বলে মনে করছেন মুদ্রাবাজারের লেনদেনকারীরা।
রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, তাদের ধারণা, বৃহস্পতিবার প্রতি ডলারের বিপরীতে রুপির দাম ৯৫ দশমিক ০২ থেকে ৯৫ দশমিক ০৬-এর মধ্যে থাকতে পারে। বুধবার লেনদেনের শেষে প্রতি ডলারের দাম ছিল ৯৫ দশমিক ১৫ রুপি।
বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) দিকে। রুপির দরপতন রোধে ব্যাংকটি কতদূর পর্যন্ত পদক্ষেপ নিতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। ডলারের চাহিদা কমাতে আরবিআই ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি, সরাসরি ডলার বিক্রির কাজও করেছে।
একটি ব্যাংকের মুদ্রাবাজার বিভাগের লেনদেনকারী জানান, রুপির দরপতন ঠেকাতে আরবিআইয়ের অবস্থান ‘একেবারেই স্পষ্ট’। তিনি বলেন, ‘এখন প্রশ্ন হলো, আরবিআই কত দূর পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত এবং বাজার আর কতটা চাপ নেওয়ার সুযোগ দেবে।’
ওই লেনদেনকারী আরও জানান, আগের দিনই রুপির দরপতন ঠেকানোর লক্ষণ স্পষ্ট হয়েছিল। তবে, রুপির দাম বাড়তে শুরু করলেও প্রতি ডলারের বিপরীতে ৯৫ রুপির সীমা পার হওয়ার পর সেই ঊর্ধ্বগতিতে বাধা আসে।
সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বাড়ার পর দেশটির ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার দ্রুত বেড়ে যায়। একই সময়ে চলতি মাসে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে বাজি ধরার পরিমাণও বেড়ে যায়।
তবে পরে পরিস্থিতি বদলে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি এড়িয়ে চলার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্ডের সুদের হার কমেছে। বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান মর্গান স্ট্যানলির তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারী ও স্বল্পমেয়াদি লেনদেনকারীদের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে বন্ডের সুদের হার কমেছে।
ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। একপর্যায়ে এই সম্ভাবনা প্রায় ৬০ শতাংশে পৌঁছেছিল। পরে তা কমে ২৫ শতাংশের নিচে নেমে আসে। মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগের অবস্থার কাছাকাছি রয়েছে এই হার।
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নভিত্তিক প্রতিষ্ঠান পেপারস্টোনের গবেষণা বিভাগের প্রধান ক্রিস ওয়েস্টন বলেন, ‘এই পরিবর্তনটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বাড়ার পরও যদি ট্রেজারি বন্ডের সুদ কমে যায়, তাহলে বোঝা যায়, বিনিয়োগকারীরা ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছেন।’
তিনি আরও বলেন, মূল্যস্ফীতি দীর্ঘদিন বেশি থাকা, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে থাকা এবং দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ সুদের হার বজায় থাকার প্রভাব নিয়ে বিনিয়োগকারীরা চিন্তিত। বিশেষ করে এমন অর্থনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের আয় ও আর্থিক অবস্থার মধ্যে আগে থেকেই বড় ব্যবধান রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন