প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সিলেট, ২২ আগস্ট, ২০২৬ : বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এই বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজন সহায়ক পরিবেশ তৈরি করার বিষয়ে তাদের কয়েকটি প্রস্তাব এবং পরামর্শ রয়েছে।
তিনি আজ শনিবার সিলেট মহানগর পুলিশের আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত সভায় অংশগ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেছেন।
মন্ত্রী এমন সময় ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন এবং বলেন যে, ভারতের যেসব ব্যবসায়ী বাংলাদেশে এসেছেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ ইতোমধ্যে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছেন। তারা বাংলাদেশ ও ভারতের স্থলবন্দরগুলো সম্পূর্ণ কার্যকর করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
খন্দকার আবদুল মুক্তাদির আরও বলেন, স্থলবন্দরগুলো বন্ধ থাকার কারণে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। এছাড়া, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অবকাঠামো খাতের বিনিয়োগের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরির জন্য একটি ট্রাস্ট গঠনের প্রস্তাব তারা এফবিসিসিআইয়ের নেতৃবৃন্দের কাছে দিয়েছেন। মন্ত্রী এসব প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদলও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে তিনি জানান। বিনিয়োগের সহায়ক পরিবেশ তৈরির বিষয়ে তাদেরও রয়েছে কিছু প্রস্তাব ও পরামর্শ। সেগুলো সরকার বিবেচনায় নিয়েছে বলেও মন্ত্রী জানান।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই শুল্ক শুধুমাত্র বাংলাদেশের জন্য নয়। বিভিন্ন দেশের ওপর রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ (পারস্পরিক শুল্ক) আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশের ওপর সাধারণ শুল্কের বাইরে বর্তমানে ১০ শতাংশ ট্যারিফ প্রয়োগ করা হয়েছে, যা সর্বনিম্ন হারের মধ্যে একটি।
বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বর্তমানে ২৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের আমদানি রপ্তানির তুলনায় বেশি। পৃথিবীর অনেক দেশে আমদানি বেশি এবং রপ্তানি তুলনামূলকভাবে কম। এটি অস্বাভাবিক কিছু নয়।
তবে, বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, রপ্তানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে আমদানির পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে। রপ্তানি ও আমদানি মিলিয়ে দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বহুগুণ বাড়ানো প্রয়োজন। দেশের অর্থনীতির আকারের সঙ্গে বাণিজ্যের পরিমাণের সামঞ্জস্য থাকা দরকার।
এ প্রসঙ্গে ভিয়েতনামের উদাহরণ তুলে ধরে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, ভিয়েতনামের আমদানি-রপ্তানি মিলিয়ে বাণিজ্যের পরিমাণ এখন প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার। সেখানে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের অর্থনীতির আকারের সঙ্গে এটি সঠিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সিলেটের আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে বলেন, সিলেটে আমরা কোনো মাদকের আনাগোনা দেখতে চাই না। দ্বিতীয়ত, সিলেটে আমরা কোনো অনলাইন জুয়া দেখতে চাই না। এছাড়া সিলেটে কোনো কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা আমরা দেখতে চাই না।
এর আগে, মন্ত্রী সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ ও তার অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি দীর্ঘ বৈঠক করেন। বৈঠকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী এবং মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমেদ চৌধুরীও বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
পরে, তিনি সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শাহপরাণ (রহ.) বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় প্রস্তাবিত ১৮৮ একর জমির নতুন বিসিক শিল্পনগরীর স্থান পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বলেন, সাধারণ স্পেস ও অন্যান্য সুবিধা বাদ দিয়ে প্রস্তাবিত এই বিসিক শিল্পনগরীতে প্রায় ১১০ একর জমিতে নিট প্লট বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হবে। শিল্পের আকারের ওপর ভিত্তি করে প্লটের সংখ্যা নির্ধারিত হবে। সড়ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইতোমধ্যে কথা হয়েছে, বাইপাসের বর্তমান সড়কটি ভবিষ্যতে ৬ লেনের মহাসড়কে উন্নীত হবে, যার ডিপিপি তৈরির কাজ চলছে। এটি ঢাকা-সিলেট মূল মহাসড়কের একটি বিকল্প মহাসড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ টিটু, সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. নুরের জামান চৌধুরী, বিসিকের জিএম প্লানিং ড. ফরহাদ আহমেদ, বিসিক সিলেট জেলা কার্যালয়ের ডিজিএম প্রকৌশলী ম. সুহেল হাওলাদার, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সকালে মন্ত্রী সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) উদ্যোগে ডিসপ্লে ও সেলস সেন্টার উদ্বোধন করেন। এরপর মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের অবদান বর্তমানে প্রায় ৩৪ শতাংশ। সরকারের মূল লক্ষ্য-এ অবদান ৫০ শতাংশে উন্নীত করা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন