প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ক্যান্সারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই শেষে এখন অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছে ১২ বছর বয়সী শিশু নিশা। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে নিয়মিত রুটিন চেকআপ ও ফলোআপের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। চিকিৎসার পরবর্তী সময়ে শিশুটির পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি রুটিন পরীক্ষার খরচ বহন করে মানবতার এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছেন।
জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিন স্মরণে মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে ক্যান্সার আক্রান্ত শিশু নিশার চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছিলেন তৎকালীন বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বর্তমান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তার উদ্যোগে নিশার জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা শুরু হয়েছিল। ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর নিশার চিকিৎসা ও এই মানবিক উদ্যোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
সম্প্রতি ঢাকার পিজি হাসপাতালে (বর্তমান বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়) নিশার নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিভিন্ন টেস্টের প্রয়োজন হয়। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে সেই পরীক্ষার খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। খবরটি প্রতিমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষার যাবতীয় খরচ বহনের ব্যবস্থা করেন।
রবিবার (৮ নভেম্বর) প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শিশুটির পরিবারের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম তাজুল ইসলাম।
সাহায্য পাওয়ার পর আবেগাপ্লুত হয়ে নিশার বাবা শ্রী নেপাল কুমার শীল বলেন, "অভাবের কারণে মেয়ের টেস্টগুলো করাতে পারছিলাম না। খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। পরে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সকল খরচের ব্যবস্থা করে দেন। তার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।"
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিবগঞ্জ উপজেলার বেতগাড়ি ইউনিয়নের ফেনীগ্রাম ফুলতলি এলাকার দরিদ্র নাপিত শ্রী নেপাল কুমার শীল ও তৃষ্ণা রাণী শীলের মেয়ে কুমারী নিশা রানী শীল। চার বছর বয়স থেকেই সে এই মারাত্মক ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। চরম অর্থনৈতিক অবস্থান মাঝেও মেয়ের জীবন বাঁচাতে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন তার বাবা, যিনি নাপিতের কাজ করে কোনোরকম সংসার চালান। ১২ বছর বয়সী নিশা বর্তমানে কিচক নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।
প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি মো. আতিকুর রহমান বলেন, "জাতীয় নির্বাচনের আগে নিশার চিকিৎসার সব ব্যয় বহন করেছিলেন প্রতিমন্ত্রী। বর্তমানে সে অনেকটাই সুস্থ। নিয়মিত চেকআপের জন্য অর্থ ও হাসপাতালের সিরিয়াল পেতে সমস্যার কথা জানালে প্রতিমন্ত্রী পরীক্ষার খরচ দেন এবং পিজি হাসপাতালে ফোন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করেন।"
প্রসঙ্গত, জাতীয় নির্বাচনের আগে নেওয়া সেই মানবিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় চিকিৎসা-পরবর্তী এমন সংকটকালেও শিশুটির পাশে প্রতিমন্ত্রীর এই নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন