প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সমুদ্রের উপর দীর্ঘ ৯ মাস, টানা ২৫০ দিন ডাঙার স্পর্শ না পাওয়া এবং একাধিকবার মেয়াদ বৃদ্ধির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এ সৃষ্টি হয়েছে এক চরম মানবিক সংকট। জাহাজে থাকা প্রায় ৫ হাজার নৌসেনা ও মেরিন সেনার জীবন হয়ে উঠেছে বিষিয়ে ওঠা।
পচা খাবার, অস্বাস্থ্যকর বাথরুম, সুপেয় পানির সংকট আর অকেজো শৌচাগারের পরিস্থিতিতে দিন কাটাতে গিয়ে ভেঙে পড়ছে সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্য। এতটাই ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে যে, বেশ কয়েকজন সেনাসদস্য সাগরে লাফিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন বলে মার্কিন সামরিক সংবাদমাধ্যম ‘মিলিটারি টাইমস’ নিশ্চিত করেছে।
গত বৃহস্পতিবার সান দিয়েগোতে আয়োজিত এক আবেগঘন গণশুনানিতে ভারপ্রাপ্ত নৌসচিব হাং কাও-এর মুখোমুখি হয়েছেন জাহাজে থাকা সেনাদের প্রায় ২০০ স্বজন। জ্যেষ্ঠ নৌ কর্মকর্তাদের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়ে এক স্ত্রী জানান, তার স্বামী লাফ দেওয়ার দিনই মেসেজ পাঠিয়ে বলেছেন—‘তিনি আশা করেন কাল সকালে যেন তার আর ঘুম না ভাঙে!’ অন্য একজন স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মার্কিন নৌবাহিনীর এই অবিবেচক সিদ্ধান্ত নেতৃত্ব ও সাধারণ সেনাদের পরিবারের মধ্যকার দীর্ঘদিনের আস্থা পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছে।
মিলিটারি টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বারবার মেয়াদের মেয়াদ বাড়ানোর ফলে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে আনাবেল লোমা নামে এক নারীর স্বামী জাহাজ থেকে সাগরে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। ওই নারী জানান, তার স্বামী দীর্ঘ সময় ধরে অবসাদে ভুগছেন এবং ১৩ বছরের ক্যারিয়ার নষ্ট হওয়ার ভয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছেন। অন্য আরেকটি ঘটনায়, এক সেনাসদস্য তার এক সহকর্মীকে সাগরে লাফ দেওয়া থেকে টেনে ধরে প্রাণ বাঁচান।
গত বছরের ২১ নভেম্বর সান দিয়েগো থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল নিজস্ব যুদ্ধজাহাজে।
তবে মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাত শুরু হয়ে যাওয়ার পর সেটিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেই থেকে টানা ৯ মাস ধরে তারা সমুদ্রে অবস্থান করছে। এর মধ্যে তারা ডিসেম্বরে গুয়ামে এবং জুলাইয়ে ওমানে মাত্র দুই দিনের জন্য ডাঙায় নামার সুযোগ পেয়েছিলেন। মে মাসে ফিরে আসার কথা থাকলেও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় বারবার তাদের মোতায়েনের মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে ইরানবিরোধী সামরিক অপারেশনের পঞ্চম মাসে রয়েছে বিমানবাহী রণতরিটি।
দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার পাশাপাশি জাহাজের অমানবিক জীবনযাত্রা সেনাদের ঠেলে দিয়েছে এক চূড়ান্ত নরকে। ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসমেম্বার মাইক লেভিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জাহাজের বর্তমান করুণ চিত্র তুলে ধরেছেন। তার বর্ণনা অনুযায়ী, জাহাজে রয়েছে ছত্রাক ধরা বাথরুম, দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট পড়ে থাকা টয়লেট ও ওয়াশিং মেশিন এবং গরম পানির প্রচণ্ড অভাব। এমনকি খাবার হিসেবে দেওয়া হচ্ছে মাত্র আধা কাপ ভাত ও দুটি রুটি। সাবান, পেস্ট ও ডিওডোরেন্টের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট সেখানে দেখা দিয়েছে।
এর আগে এপ্রিলে নিম্নমানের খাবার ও পানির সংকটের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ সেটিকে ‘ফেক নিউজ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।
কিন্তু এবার হেগসেথকে কড়া জবাব দিয়েছেন লেভিন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করেন, ‘এই তরুণ-তরুণীরা দেশের সেবা করতে এসেছে। রাষ্ট্র হিসেবে তাদের ন্যূনতম পাওনা—একটি ভাল টয়লেট, গরম পানি আর পেটে চারটে ভালো খাবার দেওয়া। হেগসেথ তার ব্যবস্থাপনাটুকুও করতে ব্যর্থ হয়েছে, অথচ স্বজনদের চোখের দিকে তাকিয়ে তাদের মিথ্যাবাদী বলতে তার বাঁধছে না!’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন