প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সারা দেশে সারের তীব্র সংকট এবং সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তদন্তের দাবি করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এই দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার মন্তব্য করেন, ‘দেশে সংকটের অভাব নেই; যেখানেই হাত দেবেন, সেখানেই সংকট। সার ডিলার নিয়োগে চরম দলীয়করণ করা হয়েছে, যার প্রত্যক্ষ নেতিবাচক প্রভাব কৃষি খাত ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর পড়ছে। বিদ্যমান সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে সার বিতরণ ও ডিলার নিয়োগে চরম দুর্নীতি, অনিয়ম ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক হলো, একজনের দায়িত্ব হলেও কথা বলছেন অন্যজন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কৃষিমন্ত্রীর, কিন্তু কথা বলছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাদের মধ্যে রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদী মানসিকতা চেপে বসেছে। জেলা পর্যায়ে গঠিত কমিটিতে রাজনৈতিক বিবেচনায় তিনজনকে মনোনীত করা হয়েছে। ফলে যোগ্য ব্যক্তিদের ডিলার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না। টাকার বিনিময়ে ডিলার নিয়োগ দেওয়ায় সার বিতরণে সরকার শতভাগ ব্যর্থ হয়েছে।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, ‘সরকারের অব্যবস্থাপনা, ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি, কালোবাজারে সার বিক্রি এবং চোরাচালানের কারণেই দেশে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। ডিলার নিয়োগের ন্যূনতম শর্ত মানা হয়নি। দিনাজপুর ও রংপুরের বদরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় দলীয় প্যাডে দেওয়া তালিকার ভিত্তিতে এবং অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘গবেষণামূলক প্রতিবেদন ‘দ্য ডিসেন্ট’-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ১৪ জন সংসদ সদস্যের নির্বাচনি এলাকায় তীব্র সারের সংকট তৈরি হয়েছে এবং কৃষকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এক এলাকার বাসিন্দাকে অন্য এলাকায় সারের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। এমনকি কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও অনেকে ডিলারশিপ পেয়েছেন। এ ছাড়া একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি, এমনকি ভুয়া গুদাম ও ভুয়া চুক্তিনামা দেখিয়েও ডিলারশিপ বাগিয়ে নিয়েছেন। রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় ডিলার নিয়োগের তালিকায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির নেতাদের যৌথ নাম পাওয়া গেছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকারের কোনো মন্ত্রীই নীতিমালার তোয়াক্কা করছেন না। ফলে এখন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নয়, বরং ‘সবার আগে দল’ নীতি চলছে। আদালতের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে এসব ডিলারশিপ বণ্টন করা হয়েছে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়ায্জম হোসাইন হেলাল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের; কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. আব্দুর রব, অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মোবারক হোসাইন, নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও ড. রেজাউল করিম এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার।
জামায়াতের ৬ দফা দাবি হলো—
১. সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ অবিলম্বে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
২. ডিলার নিয়োগের যোগ্যতার মানদণ্ড, তালিকা প্রণয়নের প্রক্রিয়া এবং লাইসেন্স প্রদানের ভিত্তি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।
৩. ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগগুলো তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
৪. সারের সংকট নিয়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্য ও মাঠপর্যায়ের প্রকৃত পরিস্থিতির অসংগতি যাচাই করে সঠিক তথ্য প্রকাশ করতে হবে।
৫. ডিলার নিয়োগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষকে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং তদন্তের অগ্রগতি জনগণকে জানাতে হবে।
৬. প্রমাণ ছাড়া রাজনৈতিক বক্তব্য বা ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে কাউকে দায়ী করা যাবে না; যেকোনো অভিযোগ প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করতে হবে।
সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সারের সংকট সম্পর্কে সরকার জাতিকে অসত্য তথ্য দিয়েছে। বিগত ছয়-সাত মাসে সরকারের সর্বস্তরে দলীয়করণ ও দুর্নীতি এবং মন্ত্রীদের বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামী গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। নিজেদের ব্যর্থতা অন্যের ওপর চাপানোর যে অপচেষ্টা চলছে, তার বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দমন-পীড়নমুক্ত একটি মানবিক ও ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পরিপন্থি। বিরোধী দলকে বাদ দিয়ে নিজেদের সুবিধামতো সংবিধান সংস্কার করে ফ্যাসিবাদের মতো ক্ষমতায় থাকার অপচেষ্টা চলছে।’
পরশেষে তিনি বলেন, গণভোটে নির্ধারিত আইনি কাঠামোর আলোকেই সংবিধান সংশোধন করা উচিত। রাজপথে সংকট না বাড়িয়ে আগামী সংসদ অধিবেশনেই বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে সংবিধান সংস্কারসহ সার, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মতো জনভোগান্তি নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন