প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য সকলকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার এবং ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজেদের অবস্থান থেকে কাজ করা। আমরা সকলেই একটি সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আমাদের অবশ্যই কাজ করতে হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই কাজের সূচনা করেছিলেন।
আজ রোববার, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৯ সালে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হয়। তিনি ২০০৩ সালে ফাউন্ডেশনের ‘একটি উদ্যোগ’ একটু চেষ্টা’ স্লোগানটি লিখেছিলেন। আজ ২৭ বছর পর আমরা এখানে পৌঁছেছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছি এবং আমরা সেটি সফলভাবে করেছি। ঐক্যবদ্ধ থাকলে ‘একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা’ স্লোগান বাস্তবায়িত হবে এবং দেশে স্বনির্ভরতা আসবে। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে আমরা মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারব এবং তাদের জন্য কাজ করতে পারব।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট তারেক রহমান বলেন, আমার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর আমি ভাবতে শুরু করি তিনি রাজনীতিতে কোন কোন কাজগুলো করেছেন। তিনি ক্ষমতায় আসার পর বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা হত্যা করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পত্রিকার স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন এবং মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এগুলো রাজনৈতিক বিষয় হলেও, তিনি কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, যারা দেশের অর্থনীতির একটি শক্তি। তিনি দেশের শিল্পের ভিত্তি শক্তিশালী করতে চেয়েছিলেন এবং শিক্ষার আলো মানুষের ঘরে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন। নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্যও তিনি কাজ করেছিলেন।
সরকার প্রধান বলেন, ১৯৯৯ সালে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হলেও বিএনপি তখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল না। এ কারণে বিএনপি তার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত করতে পারেনি। মানুষের কষ্ট, দেশের সমস্যা এবং গণতন্ত্রের বিষয়গুলো বিএনপি তুলে ধরেছে, যার জন্য দলের নেতা-কর্মীদের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
তিনি বলেন, রাজনীতির বাইরেও আমরা কীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারি এবং শহীদ জিয়ার কাজগুলোকে সামনে এগিয়ে নিতে পারি, সেই লক্ষ্যেই জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে ভিডিওতে দেখানো কাজগুলো আমাদের প্রচেষ্টার ফল।
শহীদ জিয়ার কাজগুলো আমরা মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি। তিনি কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন, আমরা সেই কাজটি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। কৃষকদের মধ্যে শস্যের বীজ পৌঁছানোর চেষ্টা করছি। শহীদ জিয়া নারীদের স্বাবলম্বী করতে চেয়েছিলেন, আমরাও গ্রামের অসহায় ও খেটে খাওয়া নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে চেষ্টা করছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়া দেশের পরিবেশ রক্ষা ও বৃক্ষরোপণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। আমরাও সেই কাজ শুরু করেছি। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ঢাকায় কয়েক লাখ গাছ রোপণ করেছে।
তিনি বলেন, আমরা রাজনীতি করি মানুষের জন্য। তবে রাজনীতির পাশাপাশি সমাজের জন্য কাজ করার ক্ষেত্র তৈরি করাও জরুরি। ২৭ বছর আগে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান।
অনুষ্ঠানটি পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়। পরে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সেবামূলক কাজ নিয়ে একটি ভিডিও প্রদর্শিত হয়।
ফাউন্ডেশনের সকল সদস্য ও কর্মীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। তবে সংগঠনটিকে বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। ফাউন্ডেশনের অনেক সদস্য বিভিন্ন রকম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
তিনি বলেন, কাজ করতে চাইলে ইচ্ছাই সবচেয়ে বড় শক্তি। আমরা দেখেছি, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অনেক বিত্তশালী ব্যক্তি আছেন, যারা তাদের সম্পদ নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেন। যদি তারা তাদের সম্পদের সামান্য অংশ সমাজের জন্য ব্যবহার করেন, তাহলে অনেকের কাছে শান্তি পৌঁছে দিতে সক্ষম হবেন।
তারেক রহমান বলেন, সব সময় অর্থ মুখ্য নয়। সবসময় সামর্থ্যও মুখ্য নয়। সবচেয়ে মুখ্য বিষয় হচ্ছে ইচ্ছা। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের সংগঠনের প্রত্যেক সদস্যের সেই প্রবল ইচ্ছা রয়েছে, যা একটি মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে সক্ষম।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হোক যতদিন আমরা সুস্থ ও সফল থাকব, ততদিন মানুষের মুখে হাসি ফোটানো।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার প্রমুখ।
উল্লেখ্য, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ১৯৯৯ সালের ১৮ অক্টোবর একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে যাত্রা শুরু করে। বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি রক্ষার লক্ষ্যে জেডআরএফ প্রতিষ্ঠা করেন।
‘একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা এনে দেবে সচ্ছলতা, দেশে আসবে স্বনির্ভরতা’ স্লোগানকে ধারণ করে গরিব এবং অসহায় মানুষের কাছে ছুটে চলেছে জেডআরএফ। ইতোমধ্যে মানবসেবার অসংখ্য দৃষ্টান্তমূলক কাজের মাধ্যমে সারা দেশে ব্যাপক পরিচিতি ও সুনাম লাভ করেছে সংগঠনটি।
জেডআরএফ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই গরিব ও দুস্থ রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়ে আসছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিনামূল্যে ঘর নির্মাণ, গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি ও সেলাই মেশিন বিতরণ, বহু চিকিৎসা ও সেবাদান কেন্দ্র স্থাপন, শীতবস্ত্র বিতরণ, সামাজিক বনায়ন, শস্যবীজ সরবরাহ, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ পুনর্বাসন, শিক্ষা বৃত্তি প্রকল্প ও ভার্চুয়াল বিজ্ঞান মেলার আয়োজনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত ও প্রকল্প গৃহীত হয়েছে। বিশেষ করে দেশে যখনই কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিয়েছে, তখনই জেডআরএফ তার সাধ্যমতো মানবসেবায় আত্মনিয়োগ করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন