প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে অবস্থিত আম্বর আলী শাহ মাজারের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে দানবাক্স থেকে প্রায় এক লাখ টাকার চুরির অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি, মাজার থেকে আটটি কাঁসার পাতিল এবং কিছু আসবাবপত্রও চুরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত ৮টা থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের মধ্যনগর এলাকায় এই চুরির ঘটনা ঘটে।
মাজার কমিটির সদস্যরা জানাচ্ছেন, এখানে একটি মাদকের সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে এবং মাদকাসক্তরা নিয়মিত মাদক সেবন করে। তাদের ধারণা, এই পরিস্থিতির কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনার পর মাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ভক্তদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মোট মূল্য প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বলে জানা গেছে।
মাজার পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি এটিএম বাক্কী কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে। তিনি মনে করেন, মাদকসেবীরাই এ ধরনের কাজ করতে পারে।
লিখিত অভিযোগে এটিএম বাক্কী উল্লেখ করেন, মঙ্গলবার রাতে মাজারের ভেতর ও চারপাশ দেখে মূল ফটকে তালা লাগিয়ে চলে যান। বুধবার সকালে মাজারে এসে তিনি দেখেন, মূল ফটকের তালা ভাঙা এবং সামনের দরজা খোলা। এরপর আশপাশের লোকজনকে ডেকে এনে মাজারের ভেতরে ও চারপাশে খোঁজাখুঁজি করেন। তখনই দানবাক্সে থাকা টাকা ও অন্যান্য মালামাল চুরি হওয়ার বিষয়টি জানা যায়।
এটিএম বাক্কী আরও জানান, লুটেরারা দানবাক্স থেকে আনুমানিক এক লাখ টাকা, ২০ হাজার টাকার আটটি কাঁসার পাতিল এবং প্রায় ২৫ হাজার টাকার বিভিন্ন আসবাবপত্র নিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকার কাছাকাছি হতে পারে।
একটি ধর্মীয় স্থাপনায় এভাবে অর্থ ও মালামাল চুরির অভিযোগে মাজারের ভক্ত ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মাজারের ভক্ত রিয়াজ এবং স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর বলেন, রাতের অন্ধকারে কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, কীভাবে তারা মাজারে প্রবেশ করেছে এবং চুরি হওয়া মালামাল কোথায় নেওয়া হয়েছে, পুলিশ তা দ্রুত তদন্ত করে বের করুক।
বাক্কী জানান, ঘটনার পর আশপাশের এলাকায় খোঁজখবর নিয়েও সন্দেহভাজন কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি বুধবার বিকেলে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিন কালের কণ্ঠকে জানান, মাজারে চুরি হওয়ার ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা জোরালো ভূমিকা রাখব। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন