প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) আন্তর্জাতিক মাইক্রোঅর্গানিজম ডে উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীতের সময় ডিজিটাল স্ক্রিনে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার ছবি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ এবং অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক ড. খন্দকার ফাহমিদা সুলতানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় অডিটোরিয়ামের ডিজিটাল স্ক্রিনে হঠাৎ করে শেখ হাসিনার ছবি ভেসে ওঠে। বিষয়টি দ্রুত নজরে আসার পর ছবিটি সরিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে প্রশ্ন ওঠে, গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষ্ঠানে স্ক্রিনে প্রদর্শনের জন্য ব্যবহৃত ভিডিওটি আগে যাচাই করা হয়েছিল কি না।
মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ বলেন, এ ধরনের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং শিক্ষকরা তা তদারকি করেন। এবারের অনুষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীকে অনুষ্ঠান ও ব্যানার দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ওই শিক্ষার্থী ইউটিউব থেকে জাতীয় সংগীতের একটি ভিডিও সংগ্রহ করেন।
অধ্যাপক ফিরোজ আহমেদ জানান, ‘পুরো ভিডিওর শেষ ১০ সেকেন্ডের মতো এই ঘটনা ঘটে। ওই শিক্ষার্থী আমাদের বলেছে, সে বিষয়টি খেয়াল করেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা অনাকাঙ্ক্ষিত একটা ভুল হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা প্রশাসনের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি। ট্রেজারার মহোদয়ের কাছেও দুঃখ প্রকাশ করেছি। ছাত্র এ বিষয়ে ক্ষমা চেয়েছে। সে বলেছে, সর্বোচ্চ ভিউ দেখে ভিডিওটা সিলেক্ট করেছিলাম, ভিডিওতে এমন কিছু থাকবে ভাবিনি।’
অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক ড. খন্দকার ফাহমিদা সুলতানা বলেন, ‘আজকের প্রোগ্রামে শুরুতেই আমাদের একটা র্যালি ছিল। এরপর প্রোগ্রাম শুরু হয়। আমাদের প্রোগ্রামগুলো জাতীয় সংগীত দিয়েই শুরু হয়। আগে আমাদের ডিজিটাল বোর্ড ছিল না, অডিওতে জাতীয় সংগীত বাজানো হতো। আজকে যে শিক্ষার্থীরা এর দায়িত্বে ছিল, তারা ইউটিউব থেকে একটা জাতীয় সংগীত ছেড়েছে। ওরা এটা ভাবেনি যে ভিডিওতে এ ধরনের কিছু থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কেউই চাইনি এ ধরনের ছবি থাকুক। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত একটা ঘটনা। এটা আসলেই আমাদের ভুল হয়েছে, আমাদের খেয়াল রাখা উচিত ছিল। এটা নিয়ে শিক্ষার্থীদেরও মন খারাপ হয়েছে, আমাদেরও খারাপ লেগেছে।’
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন তার বক্তব্যে ঘটনাটিকে দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও অনুষ্ঠানের কনভেয়রের আরো সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকা উচিত ছিল। এটি নিছক অসতর্কতা, নাকি এর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য ছিল—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’
কোষাধ্যক্ষ আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও জাতীয় অনুষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষায় এ ধরনের ঘটনার যথাযথ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।’
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ এবং অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক ড. খন্দকার ফাহমিদা সুলতানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) তামজিদ হোসাইন চৌধুরী স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাদের লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) তামজিদ হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ছবি প্রদর্শনের ঘটনায় প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান ও অনুষ্ঠানের আহ্বায়ককে শোকজ করেছে। তিন দিনের মধ্যে তাদের জবাব চাওয়া হয়েছে। প্রশাসন এ ঘটনায় যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন