প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানের বন্দর ও তেলবাহী জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ আরোপের পরও আন্তর্জাতিক বাজারে দেশটির অপরিশোধিত তেল বিক্রি ও রফতানি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের তেলমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ।
তবে মার্কিন চাপের কারণে তেল সরবরাহের পরিমাণ কমেছে বলে স্বীকার করেছেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি’র প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পাকনেজাদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ সত্ত্বেও বৈশ্বিক বাজারে ইরানি অপরিশোধিত তেলের বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। তবে আগের তুলনায় তেল সরবরাহ কমেছে।
তবে রফতানির পরিমাণ, কোন দেশগুলো ইরানি তেল কিনছে কিংবা কীভাবে তেলবাহী জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য পৌঁছে দিচ্ছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ইরানের তেলমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এ ধরনের তথ্য প্রকাশ করা হলে তা ‘শত্রুরা কাজে লাগাতে পারে’।
ইরানের তেল খাত দেশটির অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সত্ত্বেও তেহরান বিভিন্ন উপায়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল বিক্রি করে আসছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বন্দর ও তেল পরিবহনকারী জাহাজের ওপর মার্কিন চাপ আরও বাড়ানো হয়েছে। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হলো ইরানের তেল রফতানি কমিয়ে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করা এবং তেহরানকে বিভিন্ন বিষয়ে ছাড় দিতে বাধ্য করা।
তবে ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব পদক্ষেপের পরও দেশটির তেল রফতানি পুরোপুরি থামানো সম্ভব হয়নি। তেলমন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, সরবরাহ কমেছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানি তেলের প্রবাহ এখনও অব্যাহত রয়েছে।
তথ্য প্রকাশে সতর্ক তেহরান
রফতানির বর্তমান পরিমাণ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করার বিষয়ে পাকনেজাদের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর কৌশল ও তেল পরিবহনের পথ গোপন রাখতে চাইছে তেহরান।
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্যগুলোর একটি হলো দেশটির তেল বিক্রি থেকে বৈদেশিক আয় কমিয়ে দেওয়া। ফলে ইরান কোন পথে, কী পরিমাণে এবং কোন ক্রেতাদের কাছে তেল বিক্রি করছে—এসব তথ্য প্রকাশ পেলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকরকারীরা তা ব্যবহার করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ইরান।
এ কারণে তেলমন্ত্রী রফতানি কমে যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও এর মাত্রা বা সরবরাহ ব্যবস্থার বিস্তারিত প্রকাশ করেননি।
বিশ্ববাজারেও এর প্রভাব
ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদনকারী দেশ। দেশটির তেল রফতানিতে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানি তেলের প্রবাহ কমে গেলে অপরিশোধিত তেলের দাম ও বাজারের অস্থিরতার ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে।
তবে পাকনেজাদের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের পর সরবরাহ কমলেও ইরানি অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বিক্রি এখনও বন্ধ হয়নি।
ইরানের তেল রফতানি কতটা কমেছে এবং আগামী দিনগুলোতে মার্কিন অবরোধের কারণে সরবরাহ আরও কমে যাবে কি না—তা এখন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। সূত্র: আল-জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন