প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এই প্রকল্পের ভূমিকা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা জোরদার করার লক্ষ্যে পাকশী ও সাহাপুর ইউনিয়নের ইমামদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কর্মকর্তারা জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পর্কে সঠিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য প্রচার, প্রচলিত ভুল ধারণা দূরীকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ইমামগণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এই প্রকল্পের ভূমিকা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা জোরদার করতে পাকশী ও সাহাপুর ইউনিয়নের ইমামদের অংশগ্রহণে ‘কমিউনিটি লিডার রাউন্ড টেবিল’ শীর্ষক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
এ সভায় নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মো. জাহেদুল হাছান বলেন, "দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।" তিনি আরও জানান, "এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।"
আজকের সভায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা, বিকিরণ নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে এই প্রকল্পের আর্থসামাজিক অবদান সম্পর্কে সহজ ও তথ্যভিত্তিক আলোচনা করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন বলেন, "স্থানীয় জনগণের কাছে ইমামগণ অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিত্ব। সমাজে তাদের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাব রয়েছে। তাই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পর্কে সঠিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য প্রচার, প্রচলিত ভুল ধারণা দূরীকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ইমামগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।" তিনি আরও বলেন, "এ ধরনের উদ্যোগে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রকল্প ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে।"
মতবিনিময় পর্বে অংশগ্রহণকারী ইমামগণ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন, কেন্দ্রের নিরাপত্তা, বিকিরণের প্রভাব, পরিবেশ সুরক্ষা এবং স্থানীয় জনগণের কল্যাণে প্রকল্পটির ভূমিকা সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাগণ তাদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ও ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, "সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃত্বের সঙ্গে এ ধরনের সরাসরি মতবিনিময় পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কে সঠিক তথ্যের প্রসার ঘটাবে।" একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও আস্থা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের পাওয়ার স্টার্ট-আপ পর্যায়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সব কিছু স্বাভাবিক নিয়মে অগ্রসর হলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে মর্মে আশা করা যায়।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন, পাবনা এবং পারমাণবিক তথ্যকেন্দ্র, ঈশ্বরদীর সহযোগিতায় পারমাণবিক তথ্যকেন্দ্র, ঈশ্বরদীতে এ সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মো. জাহেদুল হাছান। সভায় সভাপতিত্ব করেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধান, মানবসম্পদ বিভাগ ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আলিউজজামান।
এছাড়া এনপিসিবিএল-এর ব্যবস্থাপক ও প্রকল্পের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা গোলাম শাহীনুর ইসলাম এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পাবলিক কমিউনিকেশন কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন