প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতওয়ার জেলায় থানায় হামলা ও পুলিশ সদস্যদের ওপর ভাঙচুরের অভিযোগে সেনাবাহিনীর ৪০ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলার মধ্যে এক কর্নেল ও এক মেজরও আছেন। খবরটি এসেছে এনডিটিভির মাধ্যমে।
দায়েরকৃত প্রতিবেদনে পুলিশ ১৭ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের অধীনস্থ কমান্ডিং অফিসার কর্নেল এন অরুণ গান্ধী, মেজর বিকাশ শর্মা, নায়েব সুবেদার শঙ্কর গুরখে এবং আরও ৩০-৪০ জন অজ্ঞাতনামা সেনা সদস্যকে আসামি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা কিশতওয়ারের আথোলি থানায় জোরপূর্বক প্রবেশ করেছে এবং সরকারের কর্মকর্তা ও থানার মধ্যে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষা বিভাগের এক মুখপাত্র ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, ভারতীয় সেনাবাহিনী আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে। যৌথ তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এটি একটি চলমান তদন্ত, তাই এ পর্যায়ে মন্তব্য না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের মধ্যে আথোলির ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) বিজয় কুমার ভগত এবং আথোলি থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) অমৃত কাটোচও হামলার শিকার হয়েছেন।
এসএইচও’র দায়ের করা এফআইআরে বলা হয়েছে, যখন তিনি পাড্ডারের ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসে অনুষ্ঠিত একটি সরকারি অনুষ্ঠানে ছিলেন, তখন সেনাসদস্যরা থানায় হামলা চালায়। ওই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করছিলেন কিশতওয়ারের জেলা কমিশনার। তথ্যে উল্লেখ থাকে যে, থানার ভেতরে ঘটনার খবর পাওয়ার পর তিনি দ্রুত থানায় ফিরে যান।
এফআইআরে আরও বলা হয়েছে, অভিযোগকারী কর্মকর্তা যখন থানার প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন, তখন মেজর বিকাশ শর্মার নেতৃত্বাধীন সেনাসদস্যরা তার ওপর শারীরিক হামলা চালায়। ধস্তাধস্তির সময় সেনাসদস্যরা তার ইউনিফর্মের শার্ট ছিঁড়ে ফেলে এবং এসডিপিও আথোলির ওপরও হামলা করে।
পুলিশের অভিযোগ, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হামলাকারীরা লাঠি, লোহার রড ও সরকারি অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে থানার প্রধান ফটক ও সীমানা প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, কিশতওয়ারের সহকারী আঞ্চলিক পরিবহন কর্মকর্তা (এআরটিও) সেনাবাহিনীর একটি যানবাহন জব্দ করার পর সেনাসদস্যরা থানায় হামলা চালায়।
এফআইআর অনুযায়ী, হামলাকারীরা সরকারি ও জনসম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। তারা এআরটিওর সরকারি গাড়ি, আথোলি থানার এসএইচওর গাড়ি এবং এসডিপিও আথোলির গাড়ি ভাঙচুর করে। এছাড়া থানার প্রধান ফটকও ভেঙে ফেলে।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং অভিযুক্ত সেনাসদস্যদের লক্ষ্য ছিল দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ‘হত্যা করা’।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন