প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : অস্ট্রেলিয়া উত্তর কোরিয়ার দুই ব্যক্তি ও কিছু প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই নিষেধাজ্ঞা ভুয়া পরিচয়ে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে কাজ এবং সাইবার অপরাধের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের অভিযোগে দেওয়া হয়েছে, যা পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়াকে অর্থ জোগাতে সহায়তা করে। শুক্রবার এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়া হয়।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি বিদেশে উত্তর কোরিয়ার সাইবার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এসব কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত বিপুল অর্থ উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র কর্মসূচিতে ব্যয় করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, ‘নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা উত্তর কোরিয়ার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো ভুয়া পরিচয়ে আইটি কর্মী নিয়োগ ও কাজ করানোর মাধ্যমে দেশটির শাসকগোষ্ঠীর পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির জন্য অর্থ সংগ্রহে সহায়তা করে।’
পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কারণে উত্তর কোরিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একাধিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব নিষেধাজ্ঞা এড়াতে উত্তর কোরিয়া হাজার হাজার আইটি কর্মীকে অন্য দেশের নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাজ করাচ্ছে। অভিযোগ করা হচ্ছে যে, এসব কর্মী ভুয়া পরিচয়ে কাজ করে অর্জিত অর্থ সরকারি সংস্থাগুলোর কাছে পাঠান।
তবে উত্তর কোরিয়া এসব অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে। দেশটির দাবি, এসব অভিযোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে।
গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো সতর্ক করে বলেছিল, নিজেদের প্রকৃত পরিচয় আরও ভালোভাবে গোপন রাখতে উত্তর কোরিয়ার কর্মীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছেন।
এর আগে গত মাসে নিউজিল্যান্ডের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা জানায়, উত্তর কোরিয়ার এক আইটি কর্মী ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে দেশটির একটি প্রতিষ্ঠানে দূরবর্তীভাবে কাজের সুযোগ পেয়েছিলেন। পরে তার প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ হয়ে পড়লে তিনি প্রতিষ্ঠানের সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস করার হুমকি দেন।
শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা দুই ব্যক্তি হলেন ইউ পু উং এবং সিম হিয়ন সপ। তাদের নাম আগেই প্রকাশ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র সরকার।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় চীনভিত্তিক ইউকে উত্তর কোরিয়ার অবৈধ অর্থ উপার্জন কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান সংগঠক হিসেবে বর্ণনা করেছিল। মন্ত্রণালয়টি সতর্ক করে বলেছিল, শনাক্ত হওয়া এড়াতে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহারে তিনি দক্ষ।
অন্যদিকে, সিমকে উত্তর কোরিয়ার সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ ‘ছায়া ব্যাংকার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
উত্তর কোরিয়ায় অর্থ স্থানান্তর এবং দেশটির বাইরে অর্থ পাঠানো ও সেখান থেকে অর্থ আনার কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (এফবিআই) তাকে খুঁজছে।
তার গ্রেফতারে সহায়ক তথ্যের জন্য ৫০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন