প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মালির সেনাবাহিনী এবং রাশিয়ার আধাসামরিক বাহিনী ওয়াগনারের বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানায়, যৌথ অভিযানের সময় এসব ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। সংস্থাটি এগুলোকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সেগু, মপতি ও তিম্বুকতু অঞ্চলের সাতটি স্থানে অন্তত ৩৪ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা তারা নথিভুক্ত করেছে। নিহতদের মধ্যে কেউই মৃত্যুর সময় সংঘাতে অংশগ্রহণ করছিলেন না বলে জানায় সংস্থাটি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েকজনকে পালানোর সময় বা গ্রেপ্তারের পর গুলি করে হত্যা করা হয়। আবার কিছু ব্যক্তির গলা কেটে দেওয়া হয়। অন্যদের জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগও রয়েছে। অ্যামনেস্টি তিম্বুকতু অঞ্চলের টিন আদান্ডা গ্রামের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেছে।
২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি মালির সেনাবাহিনী ও ওয়াগনারের যৌথ টহলের সময় সেখানে চারজনকে হত্যা করা হয় বলে সংস্থাটি জানায়। এছাড়া ২০২৫ সালের মার্চ ও নভেম্বরে একই এলাকায় দুটি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে অন্তত ২৩ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন শিশু ছিল।
অ্যামনেস্টি আরও জানায়, যৌথ টহলের সময় এবং লেরে ও নামপালা সামরিক ঘাঁটিতে আটক থাকা ১৫ জন পুরুষের নির্যাতনের সাক্ষ্য তারা গ্রহণ করেছে। সাক্ষীদের বক্তব্য অনুযায়ী, টহল ও সামরিক ঘাঁটিতে অন্তত ৩০ জনকে নির্যাতন বা দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘাঁটিতে নির্যাতন ও খারাপ পরিবেশের কারণে পাঁচজন মারা গেছেন বলেও তারা উল্লেখ করেছে।
অ্যামনেস্টির মতে, নিহত ও নির্যাতনের শিকার বেশিরভাগ মানুষ ফুলানি, আরব ও তুয়ারেগ পশুপালক সম্প্রদায়ের সদস্য ছিলেন। সংস্থাটি বলেছে, কিছু মানুষকে তাদের জাতিগত পরিচয় এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় এলাকায় থাকার কারণে ওই গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহ করা হয়েছে।
এপ্রিল মাসে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস (এফআইডিএইচ) সহ তিনটি নাগরিক সংগঠন মালির সেনাবাহিনী ও ওয়াগনারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আফ্রিকান ইউনিয়নের মানবাধিকার আদালতে মামলা করে।
২০২০ ও ২০২১ সালে দুটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মালির জান্তা সরকার ক্ষমতায় আসে। এরপর তারা জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রাশিয়ার সহায়তা গ্রহণ করে। এই সময় রাশিয়ার ওয়াগনার বাহিনীকে মালিতে কাজে লাগানো হয়। পরে এই বাহিনী ‘আফ্রিকা কর্পস’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। মালিতে বেসামরিক মানুষ হত্যার জন্য দেশটির সেনাবাহিনী ও রুশ বাহিনীকে এর আগে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন অভিযুক্ত করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন