প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লন্ডনের ২০টি প্রশাসনিক এলাকায় গত এক বছরে বাড়ির দাম কমার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে চারটি এলাকায় গড় বাড়ির দাম ১০ শতাংশের বেশি কমেছে। সবচেয়ে বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে ওয়েস্টমিনস্টারে, যেখানে এক বছরে গড় বাড়ির দাম ২০ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে।
অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকসের (ওএনএস) প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ওয়েস্টমিনস্টারে একটি বাড়ির গড় দাম ছিল ১১ লাখ ৬ হাজার পাউন্ড। চলতি বছরের জুলাই মাসে তা কমে ৮ লাখ ৭৭ হাজার পাউন্ডে পৌঁছেছে।
লন্ডনের কেন্দ্রীয় এই প্রশাসনিক এলাকায় বাড়ির দামের পতন আগের মাসের তুলনায় কিছুটা কমেছে। জুন পর্যন্ত এক বছরের হিসাবে সেখানে বাড়ির দাম কমেছিল প্রায় ২৫ শতাংশ।
১০ শতাংশের বেশি পতন হয়েছে অন্য তিনটি এলাকায়ও। টাওয়ার হ্যামলেটসে চলতি বছরের জুলাই মাসে বাড়ির গড় দাম ছিল ৪ লাখ ৪৮ হাজার পাউন্ড। এক বছর আগে একই সময়ে তা ছিল ৫ লাখ ২৩ হাজার পাউন্ড, অর্থাৎ এক বছরে দাম কমেছে ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ।
কেনসিংটন অ্যান্ড চেলসিতে বাড়ির গড় দাম ১৪ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। সেখানে দাম ১৪ লাখ ৩৫ হাজার পাউন্ড থেকে কমে ১২ লাখ ৩৩ হাজার পাউন্ড হয়েছে। ক্যামডেনে কমেছে ১০ দশমিক ১ শতাংশ—৯ লাখ ৭ হাজার পাউন্ড থেকে ৮ লাখ ১৫ হাজার পাউন্ডে।
এছাড়া, হ্যামারস্মিথ অ্যান্ড ফুলহ্যামে বাড়ির দাম ৯ শতাংশ কমেছে। ল্যামবেথে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ, ওয়ান্ডসওয়ার্থে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ, নিউহ্যামে ৫ শতাংশ এবং বার্নেটে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে।
তবে লন্ডনের সব প্রশাসনিক এলাকায় বাড়ির দাম কমেনি। ১১টি এলাকায় গড় বাড়ির দাম বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহ্যামে-৫ দশমিক ৩ শতাংশ। সেখানে বাড়ির গড় দাম ৩ লাখ ৫৭ হাজার পাউন্ড থেকে বেড়ে ৩ লাখ ৭৬ হাজার পাউন্ড হয়েছে।
বাড়ির দাম কমলেও বেড়েছে ভাড়া
বাড়ির দাম কমলেও লন্ডনের প্রায় সব প্রশাসনিক এলাকায় ভাড়া বেড়েছে। আগস্ট পর্যন্ত এক বছরে ভাড়া সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ইস্লিংটনে-৬ দশমিক ২ শতাংশ। গ্রিনউইচে বেড়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। সাউথওয়ার্ক ও মার্টনে বেড়েছে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ করে। এনফিল্ডে ভাড়া বেড়েছে ৫ দশমিক ১ শতাংশ।
পুরো লন্ডনের হিসাবে, জুলাই পর্যন্ত এক বছরে বাড়ির গড় দাম কমেছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে আগস্ট পর্যন্ত ১২ মাসে গড় ভাড়া বেড়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
ভাড়া বাড়ার পেছনে বাড়িওয়ালাদের কেউ কেউ রেন্টার্স রাইটস অ্যাক্টের কারণে বাড়তি ব্যয়কে দায়ী করছেন।
সুদের হার অপরিবর্তিত, বাড়ছে বন্ধকি ঋণের খরচ
বাড়ির দামে এই পতনের মধ্যে অর্থনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বেড়েছে- এমন পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবার ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের মুদ্রানীতি কমিটি সুদের হার ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে।
তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নির্দিষ্ট সুদের হারের বন্ধকি ঋণের হার বেড়েছে। লন্ডনের বাড়ির মালিকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, চলতি বছর ও ২০২৭ সালে সুদের হার চারবার বাড়লে তাঁদের বার্ষিক বন্ধকি ঋণের খরচ ২ হাজার ৬০০ পাউন্ড পর্যন্ত বাড়তে পারে।
এলঅ্যান্ডসি মর্টগেজেসের সহযোগী পরিচালক ডেভিড হলিংওর্থ বলেন, মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে—এমন ইঙ্গিতের প্রতি বাজার এখন আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে। চলমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং জ্বালানি ও বিদ্যুতের বাড়তি দামও এতে প্রভাব ফেলছে।
তিনি বলেন, এর ফলে বাড়ির মালিকদের কয়েক মাস আগের তুলনায় বেশি বন্ধকি ঋণের সুদ এবং তুলনামূলক প্রতিকূল ঋণবাজারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে।
অন্যদিকে লন্ডনভিত্তিক আবাসন প্রতিষ্ঠান অ্যান্টনি রবার্টসের বিক্রয় বিভাগের প্রধান অ্যামি রেনল্ডস বলেন, ভাড়ার বাজারে বাড়ির সরবরাহ এখনো সীমিত। বাড়িওয়ালারা বাজার ছাড়তে থাকায় ভালো বাসার জন্য ভাড়াটিয়াদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। তাঁর মতে, শরৎকালেও পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
এদিকে লন্ডনের ১০ লাখের বেশি বাসিন্দার কাউন্সিল ট্যাক্সও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। ওয়েস্টমিনস্টার ও ওয়ান্ডসওয়ার্থসহ কয়েকটি প্রশাসনিক এলাকার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থায়ন কমে যাওয়াকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমএসএন অবলম্বনে
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন