প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফ্রান্সের একটি আদালত ভারতীয় নাগরিক রোহান রানেকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র গড়ে তুলে বিভিন্ন দেশের অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীদের যৌন নির্যাতন, ব্ল্যাকমেইল ও শারীরিক নিপীড়নে বাধ্য করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) প্যারিসের আদালত এই রায় ঘোষণা করে। এর আগে সরকারি কৌঁসুলিরা তাঁর জন্য ৩০ বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করেছিলেন।
২৯ বছর বয়সী রোহান ‘সিভিএলটি’ নামের একটি সহিংস অনলাইন গোষ্ঠীর অন্যতম নেতা ও প্রশাসক ছিলেন।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গোষ্ঠীটির সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীদের অনলাইনে লক্ষ্যবস্তু বানাতেন। প্রথমে তারা যোগাযোগ করে ব্যক্তিগত ছবি সংগ্রহ করতেন। পরে সেসব ছবি প্রকাশের হুমকি দিয়ে যৌন কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা হতো এবং নিজেদের শরীরে আঘাত করতে নির্দেশ দেওয়া হতো। নির্যাতনের দৃশ্য ধারণ করে অনলাইনে আদানপ্রদানের তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সূত্র ধরে তদন্ত
২০২০ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের শিশু সুরক্ষাবিষয়ক সংস্থা ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেন অনলাইনে ১২ বছর বয়সী এক শিশুর নির্যাতনসংক্রান্ত ছবি শনাক্ত করে। শিশুটিকে নিজের শরীরে ‘রোহান’ নামটি খোদাই করতে উৎসাহিত করার তথ্য পাওয়া গেলে তদন্ত শুরু হয়। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফরাসি তদন্তকারীরা রোহান ও তাঁর সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড অনুসন্ধান করেন।
তদন্তে দেখা যায়, গোষ্ঠীটির সদস্যরা ডিসকর্ডসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যোগাযোগ রাখতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন ফোরাম থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে থাকা কিশোরীদের খুঁজে বের করে তাঁদের ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো। কিছু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের বাড়িতে পুলিশ পাঠানোর ভয় দেখিয়েও মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হতো।
অন্তত ২০ ভুক্তভোগী শনাক্ত
ফরাসি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তে অন্তত ২০ জন ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছয়জন মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভুক্তভোগী পক্ষ হিসেবে অংশ নেন। অধিকাংশ ভুক্তভোগী নির্যাতনের সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। সবচেয়ে কম বয়সী ভুক্তভোগীর বয়স ছিল ১২ বছর।
তদন্তে ভুক্তভোগীদের নিজেদের শরীরে আঘাত করা, ত্বকে নাম বা নাৎসি প্রতীক খোদাই করতে বাধ্য করা এবং নির্যাতনের দৃশ্য ধারণের মতো ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের মতে, যৌন ব্ল্যাকমেইলের পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের ওপর চরম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও সহিংসতার মাধ্যমে আধিপত্য বিস্তার ছিল গোষ্ঠীটির কর্মকাণ্ডের অংশ।
রোহান ২০২১ সালে পুনে থেকে ফ্রান্সে পড়াশোনার জন্য যান। দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্তিব শহরের একটি ব্যবসায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শেষে তিনি শরীরচর্চার প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০২১ সালে আন্তিব থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোহান অনলাইন গোষ্ঠীটির প্রশাসক হিসেবে নিজের ভূমিকার কথা স্বীকার করেছিলেন। তাঁর কম্পিউটার ও মুঠোফোনে পাওয়া ভিডিওসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
তদন্তকারীরা গোষ্ঠীটির সঙ্গে নব্য নাৎসিবাদ, বর্ণবাদ, ইহুদিবিদ্বেষ, নারীবিদ্বেষ ও চরম সহিংসতার যোগসূত্র পেয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রেও গোষ্ঠীটির অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পাঁচ দিনের বিচার শেষে আদালত রোহানকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেন। সরকারি কৌঁসুলিরা তাঁর ৩০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিলেন। মামলায় পাঁচ মার্কিন ভুক্তভোগীর প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবী এপিকে জানান, নির্যাতনের প্রভাব ভুক্তভোগীদের জীবনে গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে।
ফরাসি কর্তৃপক্ষের অবস্থান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের বিষয়টি বিবেচনার আগে ফ্রান্সে রোহানের বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখোমুখি করার সম্ভাবনার কথা সংবাদমাধ্যমে এসেছে। তবে প্রত্যর্পণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন