প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পঞ্চগড়ে এক গৃহবধূর শয়নকক্ষে প্রবেশ করে বর্বরোচিত হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এ হামলার অভিযোগ উঠেছে ওই নারীর দাঁত ভেঙে ফেলা, মাথার চুল কেটে নেয়া এবং যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের বিষয়ে।
এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনা ঘটেছে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায়। সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। পরে, এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী কূলে দায়ের করা মামলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে একই এলাকার রাকিব ইসলাম (২৬), সোহেল রানা (২০), সাহেল খাতুন (৪০), সমসের আলী (২৮), আবুল হক (৫০) এবং সুজন ইসলাম (১৯)। এ ছাড়া আরও ৬ থেকে ৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ভুক্তভোগী কনিকা রায় গত ১২ জুন হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেন। এরপর তিনি কুলসুম বেগম নাম ধারণ করেন। ধর্মান্তরিত হওয়ার পর দারগালী নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে একই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ধর্ম পরিবর্তন এবং বিয়ে মেনে নিতে না পেরে আসামিরা সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠি ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে কুলসুমের কাছ থেকে তার ধর্মান্তরিত হওয়া ও বিয়ের হলফনামা (অ্যাফিডেভিট) কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে এবং তার ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয়।
পরে রাকিব ইসলাম লোহার রড দিয়ে কুলসুমের মুখে আঘাত করে তার একটি দাঁত ভেঙে দেয়। নির্যাতন চলাকালে সোহেল রানা ব্লেড দিয়ে ওই নারীর মাথার অর্ধেক চুল কেটে দেয়। এরপর কুলসুমের হাত-পা চেপে ধরে রাকিব ইসলাম যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। যন্ত্রণায় ওই নারী চিৎকার করতে থাকলে তার স্বামী বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়।
হামলাকারীরা ঘরে থাকা দেড় লাখ টাকা মূল্যের মালামাল ভাঙচুর করে। তারা নগদ ৮৫ হাজার টাকা এবং ৬৬ হাজার টাকা মূল্যের ১১ মণ বাদাম লুট করে নিয়ে যায়। তার সাথে তিনটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক কুলসুমের স্বাক্ষর নেয়া হয়।
পরে ভুক্তভোগী এবং তার স্বামীর চিৎকার শুনে স্থানীয় প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় কুলসুম বেগমকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনায় বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী নারীর স্বামী দারগালী সময় সংবাদকে জানান, 'হঠাৎ করেই তারা আমাদের ঘরে প্রবেশ করে হামলা ও মারধরসহ এ ঘটনাটি ঘটায়। আমরা এ ঘটনায় আসামিদের কঠোর বিচার দাবি করছি।'
দেবীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার প্রভাস চন্দ্র রায় মামলার বিষয়টি সময় সংবাদকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, 'বুধবার রাতে মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ২, ৩ ও ৪ নম্বর আসামিকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পলাতক অপর আসামিদের গ্রেফতারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।'
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন