প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের ব্যবসায়ীরা দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। তারা পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের সঙ্গে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়া এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক জটিলতার অভিযোগ তুলেছেন।
ভারতীয় ব্যবসায়ীদের এই ঘোষণার ফলে আগামীকাল থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এতে বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসায়ী, আমদানিকারক-রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, পরিবহন শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
তারা দাবি করেছেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও বাণিজ্যিক জটিলতা বিদ্যমান। এই কারণে ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন এবং হিলি স্থলবন্দর ব্যবহার করে বাণিজ্য পরিচালনায় আগ্রহ হারাচ্ছেন।
অন্যদিকে, অন্যান্য স্থলবন্দরে পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম তুলনামূলক সহজ হওয়ায় ব্যবসায়ীরা সেসব বন্দরের দিকে ঝুঁকছেন। এর ফলে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ কমে যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টরা ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা সমস্যাগুলো সমাধান না হওয়া পর্যন্ত হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামীকাল থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার কথা।
হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে। এই বন্দরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ী, আমদানিকারক-রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, পণ্যবাহী ট্রাকের চালক ও শ্রমিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন।
দীর্ঘ সময় আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলে এর নেতিবাচক প্রভাব দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে পড়তে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশে ভারতীয় পণ্যের সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।
এদিকে, ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ঘোষণার পর হিলি স্থলবন্দরের বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার দাবি জানিয়েছেন।
ব্যবসায়ীদের মতে, দুই দেশের পারস্পরিক বাণিজ্যের জন্য এই স্থলবন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরাই ক্ষতির মুখে পড়বেন। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান জরুরি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন