প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লুকা মদ্রিচ (বাঁয়ে) ও কেন উইলিয়ামসনের হাসি ম্যাচের পরেও অব্যাহত থাকে। সংগৃহীত ছবিতে তাদের মুখে হারার পরও হাসি দেখা যায়।
খেলার মাঠে চরম পরাজয়ের সময় অনেক কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের হাস্যোজ্জ্বল মুখ দেখা যায়। লুকা মদ্রিচ, কেন উইলিয়ামসন, রজার ফেডেরার এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো খেলোয়াড়রা বড় ধরনের হার বা হতাশার মুহূর্তেও নিজেদের সংযত রেখে হাসি মাখা মুখ নিয়ে থাকেন। অনেকের কাছে এটি হলো স্পোর্টসম্যানশিপের পরিচয়, তবে আধুনিক মনোবিজ্ঞান ও স্নায়ুবিজ্ঞানের মতে, এর পেছনে মানুষের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করে।
২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর লুকা মদ্রিচের হাস্যময় মুখ আবারও আলোচনায় এসেছে। কেন উইলিয়ামসনের শান্ত অভিব্যক্তি ২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ ফাইনালে হৃদয় ভেঙে যাওয়ার পর এই বিষয়টি নতুন করে নিয়ে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চরম মানসিক চাপ বা আবেগের মুহূর্তে মানুষের মস্তিষ্ক কখনও কখনও বিপরীতধর্মী আভাস প্রকাশ করে। মনোবিজ্ঞানে একে বলে ‘Incongruent Affect’ বা ‘Dimorphous Expression’। অর্থাৎ, প্রচণ্ড দুঃখের মাঝেও হাসি অথবা অতিরিক্ত আনন্দে চোখে জল আসা, দুটিই একই ধরনের মানসিক প্রতিক্রিয়া।
ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী ড. ওরিয়ানা আরাগনের গবেষণায় দেখা গেছে, তীব্র আবেগের ভারসাম্য রক্ষা করতে মস্তিষ্ক এমন প্রতিক্রিয়া দেখায়। চরম পরাজয়ের পর শরীরে কর্টিসল এবং অ্যাড্রেনালিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। একই সময়ে, মস্তিষ্ক এন্ডোরফিন এবং ডোপামিন নিঃসরণ করে মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করে। এর ফলস্বরূপ, অনেক সময় মুখে হাসির একটি ছাপ ফুটে ওঠে।
মনোবিজ্ঞানে এই প্রক্রিয়াকে ‘Emotional Homeostasis’ বলা হয়। অর্থাৎ, মানুষের মস্তিষ্ক সবসময় আবেগের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করে। অতিরিক্ত দুঃখ অথবা আনন্দ, দুই পরিস্থিতিতেই সেই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে বিপরীতধর্মী আবেগ প্রকাশ হতে পারে।
ক্রীড়া মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের খেলোয়াড়রা দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপ মোকাবেলার বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তাই তারা অবগত থাকেন যে ফলাফল সবসময় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, তবে নিজের প্রচেষ্টা নিয়ন্ত্রিত রাখা যায়। এজন্য, পরাজয়ের পর অনেক সময় তাদের মুখে যে হাসি দেখা যায়, বিশেষজ্ঞরা এটিকে ‘Smile of Acceptance’ বা বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার প্রতীকেরূপে দেখেন।
২০১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে নাটকীয়ভাবে হারের পর কেন উইলিয়ামসনের হাস্যময় মুখটি আজও ক্রিকেট ইতিহাসের একটি স্মরণীয় দৃশ্য। একইভাবে, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হারলেও লুকা মদ্রিচ, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং রজার ফেদেরারের সংযত হাসি তরুণ সতীর্থদের জন্য অনুপ্রেরণার বার্তা হিসেবে কাজ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হাসি পরাজয়ের আনন্দ বা উল্লাস নয়। বরং এটি মানসিক স্থিতিস্থাপকতা, আত্মসংযম এবং কঠিন বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার ক্ষমতার স্পষ্ট প্রতিফলন। আধুনিক ‘Sports Psychology’ এবং ‘Neuroscience’ প্রদর্শন করে যে, অত্যন্ত কঠিন মুহূর্তে নিজেকে সামলাতে মস্তিষ্ক অনেক সময় হাসিকে বেছে নেয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন