প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী তাসমিম মাহিদ চঞ্চলকে ৩০ দিনের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে একাধিকবার ধর্ষণ এবং আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের ঘটনা ঘটেছে।
সম্প্রতি বিচারপতি মো. খায়রুল আলম এবং বিচারপতি মো. রফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই নির্দেশ প্রদান করেন।
মামলার আসামিপক্ষে শুনানিতে আইনজীবী সজিব চন্দ্র বণিক অংশ নেন। অপরদিকে, ভুক্তভোগীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শিকদার গুলজার আহমেদ। উল্লেখ্য, ভুক্তভোগীও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে আসামি তাসমিম মাহিদ চঞ্চলের সঙ্গে ভুক্তভোগীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে আসামি ভুক্তভোগীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি রেস্টুরেন্টের স্মোকিং জোনে প্রথম ধর্ষণ করেন। ওই সময় আসামি গোপনে ভুক্তভোগীর আপত্তিকর ছবি তুলে রাখেন এবং পরবর্তীতে সেই ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে সম্পর্ক বজায় রাখতে বাধ্য করেন।
এর ধারাবাহিকতায়, গত বছরের ৩১ আগস্ট মধ্যরাতে আসামির প্রলোভনে ভুক্তভোগী ধানমন্ডির একটি হোটেলে যান এবং সেখানে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তারা শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন। এরপর থেকেই আসামি ভুক্তভোগীকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন এবং বিয়ের কথা বললে তার পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নেবে না বলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিতে থাকেন। উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে গত বছরের ১৫ অক্টোবর আপস-মীমাংসার জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হলেও আসামি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে, ভুক্তভোগী একই বছরের ১৮ অক্টোবর ধানমন্ডি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
একই বছরের ২০ অক্টোবর ভুক্তভোগীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে শারীরিক সম্পর্কের আলামত বিদ্যমান থাকার কথা বলা হলেও তা সাম্প্রতিক বা জোরপূর্বক নয় বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া, মেডিকেল বোর্ড ভুক্তভোগীর বয়স আনুমানিক ২০ বছর বলে নির্ধারণ করে।
পুলিশি তদন্ত শেষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(খ) ধারায় চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বর্তমানে মামলাটি অভিযোগ গঠনের জন্য ঢাকার ৬ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।
মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল আসামি স্বেচ্ছায় ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার যুক্তিতে আদালত ১০ মে পর্যন্ত তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। পরে ১০ মে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
২৪ মে ট্রাইব্যুনাল থেকে পুনরায় জামিন নামঞ্জুর হলে আসামি হাইকোর্টে আপিল করেন। সে সময় আসামির চতুর্থ বর্ষের প্রথম সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা এবং আপস-মীমাংসার মৌখিক আবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্ট তাকে শর্তসাপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছিলেন।
তবে নির্ধারিত তারিখে মামলার শুনানি শেষে দেখা যায়, আসামির পরীক্ষা শেষ হলেও উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো ধরনের আপস-মীমাংসা হয়নি। এরপর জামিন আবেদনের আর কোনো আইনগত ভিত্তি না থাকায় হাইকোর্ট গত ১০ সেপ্টেম্বর আসামির জামিন আবেদন খারিজ করে রায় দেন এবং রায়ের অনুলিপি প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে আসামিকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনি আত্মসমর্পণ না করলে আইনানুযায়ী আসামিকে গ্রেফতারের বিষয়ে বিচারিক আদালত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে বলেও রায়ে বলা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন