প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে দাপটের সঙ্গে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল।
বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে টস জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৯০ রান সংগ্রহ করে।
সেক্ষেত্রে, মালয়েশিয়ার দল ৪০.৫ ওভারে ১৩৭ রানে অলআউট হয়। ফলে, ১৫৩ রানের বিশাল ব্যবধান দিয়ে সিরিজের শুভ সূচনা করেছে বাংলাদেশ দলের যুবারা।
যদিও বাংলাদেশ দলের শুরুটা বেশ কঠিন ছিল। দুই ওপেনার জাওয়াদ আব্রার এবং ইকবাল হোসেন দ্রুত ফিরলে স্বাগতিকদের চাপের মধ্যে পড়তে হয়।
জাওয়াদ ৮ বল খেলে ৫ এবং ইকবাল ৩ বল খেলে শূন্য রানে আউট হয়ে যান। এরপর কালাম সিদ্দিকী ৫৬ বলে ৩৪ রান করেন এবং ইনিংসটিকে কিছুটা গুছিয়ে নিতে চেষ্টা করেন।
কিন্তু, নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়ার ফলে বাংলাদেশের বড় সংগ্রহ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়।
সেখান থেকেই ম্যাচের চিত্র বদলে দেন মোহাম্মদ আবদুল্লাহ এবং আহরার আমিন। এই দুজনের ব্যাটে বাংলাদেশ দলের ইনিংসে স্থিরতা এবং গতি আসে। আবদুল্লাহ একজন দায়িত্বশীল ইনিংস উপহার দেন, ১০০ বলে ৭টি চার ও ৪টি ছক্কা মারার মাধ্যমে ৯৪ রানের ইনিংস খেলে। যদিও তিনি মাত্র ৬ রানের জন্য সেঞ্চুরি না পেলেও তার ইনিংসটি বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করে।
অন্যদিকে, আহরার ছিলেন বেশ আক্রমণাত্মক। ৬২ বলে ৪টি চার ও ৫টি ছক্কা মারার মাধ্যমে ৬১ রান করেন। আবদুল্লাহর সঙ্গে তার জুটি মালয়েশিয়ার বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। তারা দুজন মিলে ১৫৫ রান যোগ করেন, যা বাংলাদেশের মোট সংগ্রহের অর্ধেকেরও বেশি। শুরুতে ধাক্কা সামলে নেওয়ার পর এই জুটি বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরায় এবং শেষ পর্যন্ত বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যায়।
আবদুল্লাহ এবং আহরারের জুটি ভাঙার পরও বাংলাদেশের রান বন্ধ হয়নি। শেষ দিকে শেখ জীবনের দুর্দান্ত ক্যামিও ইনিংসে নতুন গতি এনে দেয়। তিনি মাত্র ১৮ বলে ৩৫ রান করেন, যার মধ্যে ২টি চার এবং ৩টি ছক্কা রয়েছে। জিবনের এই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের কারণেই বাংলাদেশ ২৯০ রানের সংগ্রহ পর্যন্ত পৌঁছায়।
মালয়েশিয়ার জন্য ২৯১ রানের লক্ষ্য শুরু থেকেই বেশ কঠিন ছিল। বাংলাদেশের বোলাররা নিয়ন্ত্রিত ফাস্ট বোলিং করে সময় সময়ে উইকেট তুলে নিয়েছেন, ফলে রান তাড়ায় কখনোই ম্যাচে ফিরতে পারেনি তারা। সাইফ উল্লাহ মালিক ৩৮ বল খেলে ২১ রান, বিজয় উন্নি ৩৮ বল খেলে ১২ রান এবং সৈয়দ জুনাইদ খান ২৬ বল খেলে ২১ রান করেন। কিন্তু, তাদের মধ্যে কেউই ইনিংসটি বড় করতে পারেননি।
মালয়েশিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন আহমাদ জুবাইদি, যিনি ৬৬ বল খেলে ৪২ রান করেন, তার ইনিংসে ২টি চার এবং ৩টি ছক্কা ছিল। তবে, তার প্রতিরোধও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বাংলাদেশের বোলারদের ধারাবাহিক আঘাতে শেষ পর্যন্ত ১৩৭ রানেই শেষ হয়ে যায় মালয়েশিয়ার ইনিংস।
বাংলাদেশের জয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন জীবন। ব্যাট হাতে ১৮ বলে ৩৫ রান করার পাশাপাশি বল হাতেও অবদান রেখেছেন। মালয়েশিয়ার ৫টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেটও তিনি তুলে নেন। তাঁর সঙ্গে মারুফ মৃধা ও স্বাধীন ইসলাম দুটি করে উইকেট নিয়ে মালয়েশিয়ার ব্যাটিং অর্ডার ভেঙে দেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন