প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় প্রশাসনের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র জনবল সংকট চলছে। প্রায় দুই লাখ মানুষের বসবাসের ছয় ইউনিয়নের এই উপজেলায় শিক্ষা, মৎস্য, সমাজসেবা ও মহিলা বিষয়ক দপ্তরে নিয়মিত কর্মকর্তার সংকট চলছে।
উপজেলায় ১৭টি মাধ্যমিক ও তিনটি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও চার বছর ধরে নেই নিয়মিত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। বর্তমানে চকরিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কুতুবদিয়ার দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি পেকুয়া উপজেলারও অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে একজন কর্মকর্তা দিয়েই তিন উপজেলার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে।
একই সংকট রয়েছে কুতুবদিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়েও। মহেশখালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাহাদুল ইসলাম অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কুতুবদিয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর কুতুবদিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিক আবেদীন অন্যত্র বদলি হওয়ার পর পদটি শূন্য হয়ে যায়। এরপর এক মাস অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন মো. রবিউল করিম। পরে মহেশখালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকায় প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার মৎস্যজীবীরা।
শিক্ষাখাতেও এর প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নিয়মিত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ এ কার্যালয়ের কার্যক্রম চলছে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও দুজন অফিস সহায়কের ওপর নির্ভর করে।
স্থানীয়দের দাবি, পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। অতীতের তুলনায় এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ফল খারাপ হওয়ার বিষয়টিও তারা তুলে ধরছেন।
এদিকে উপজেলা মহিলা বিষয়ক দপ্তর ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়েও নেই নিয়মিত কর্মকর্তা। এতে হতদরিদ্র মানুষ ও নারীদের জন্য পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সাগরবেষ্টিত ও দুর্গম এই দ্বীপ উপজেলার শিক্ষা ও মৎস্য খাতসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলোতে নিয়মিত কর্মকর্তার উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি।
এ বিষয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান জানান, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যালয়ে নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, এই জটিল পরিস্থিতি নিরসনের বিষয়টি কক্সবাজার জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন