প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জুলাই বিপ্লবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মাকসুদ কামাল এবং শাবিপ্রবির সাবেক অধ্যাপক জাফর ইকবালসহ পাঁচজনকে আত্মসমর্পণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই নির্দেশনা প্রদান করে।
এর আগে, গত ২০ সেপ্টেম্বর, আসামিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দেওয়া অভিযোগ গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আজ সকালে এই মামলার তিন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
প্রসিকিউটর মইনুল করিম বলেন, "আগেই পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের ঠিকানায় গিয়ে খুঁজে পায়নি। পরে আসামিদের আত্মসমর্পণ করতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল করিম শয়ন ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা তৎপর হয়ে ওঠেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ১৩ জুলাই আসামি জামাল উদ্দিন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের সভাপতি ও মুখপাত্র হিসেবে এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বংশধর, পরাজিত অপশক্তি, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ট্যাগ দিয়ে তাদের দমনে বল প্রয়োগের উসকানি ও প্ররোচনা দেন। জামাল উদ্দিন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাবিরোধী ট্যাগ দিয়ে সমূলে উৎপাটন করে বঙ্গোপসাগরে ডুবিয়ে মারার ঘোষণা দেন। অপরদিকে সাবেক বিচারপতি মানিক বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের দমনের লক্ষ্যে উদ্দেশ্যমূলকভাবে পাকিস্তানপন্থী এবং স্বাধীনতাবিরোধী আখ্যা দিয়ে উসকানি ও প্ররোচনা প্রদান করেন।
অভিযোগের বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের রাজাকার ট্যাগ দিয়ে জাফর ইকবাল লেখেন, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমার বিশ্ববিদ্যালয়, আমার প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়। তবে আমি মনে হয় আর কোনো দিন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে চাইব না। ছাত্রছাত্রীদের দেখলেই মনে হবে, এরাই হয়তো সেই রাজাকার। আর যে কদিন বেঁচে আছি, আমি কোনো রাজাকারের মুখ দেখতে চাই না। একটাই তো জীবন। সেই জীবনে আবার কেন নতুন করে রাজাকারদের দেখতে হবে?" এভাবে তিনি শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনের পক্ষে না নিয়ে তাদের রাজাকার ট্যাগ দিয়ে নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে তাদের দমনের উসকানি দেন।
এছাড়া ভিসি মাকসুদ কামাল আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের সঙ্গে মিটিং করে আন্দোলন দমনের পরামর্শ দেন। তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে কথোপকথনের মধ্যে আন্দোলনকারীরা খুব বেড়ে গেছে উল্লেখ করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আসামিদের উসকানি, প্ররোচনা, নির্দেশনা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করা হয়। এতে সানজিদা আহমেদ তন্বিসহ প্রায় ৩০০ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। এ ছাড়া ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ঢাবি ক্যাম্পাস ও পার্শ্ববর্তী নিউমার্কেট, নীলক্ষেত, সায়েন্স ল্যাব ও ইডেন কলেজ এলাকায় গুলি করে শাজাহান, খালিদ হাসান সাইফুল্লাহ, সাইদুল ইসলাম শোভন ও মো. আব্দুল ওয়াদুদ শাওন শিকদারকে হত্যা এবং ১৫ জনসহ আরও অনেককে গুরুতর জখম করা হয়। এর মাধ্যমে হত্যার চেষ্টা, নির্যাতন এবং অন্যান্য অমানবিক আচরণের মাধ্যমে আসামিরা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেন।
আসামি বিচারপতি মানিক, আ.ক.ম. জামাল উদ্দিন ও সৈকত বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। বাকিরা পলাতক।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন