প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চীন লাদাখের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ২৮টি কৌশলগত এলাকার নতুন নামকরণ করে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে। এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, লাদাখ তাদের ‘অবিচ্ছেদ্য ও অবিভাজ্য অংশ’ এবং চীনের কোনও অস্বীকৃতি এই বাস্তবতাকে পরিবর্তন করতে পারবে না।
ভারত সরকার গত ২ অক্টোবর লাদাখ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর গোগরা ও হট স্প্রিংসহ ২৮টি কৌশলগত অবস্থান এবং ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় মানচিত্রে চিহ্নিত করেছে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল সরকারি কার্টোগ্রাফির মান উন্নয়ন, সীমান্ত এলাকার সঠিক পরিচিতি নিশ্চিত করা এবং এই সংবেদনশীল সীমান্ত অঞ্চল সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের এই জায়গাগুলোকে সার্ভ অব ইন্ডিয়ার মানচিত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করার মূল লক্ষ্য হলো সেগুলোর সঠিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা।
নতুন বা প্রামাণ্য নাম অন্তর্ভুক্ত করা এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে, উচ্চ উচ্চতার শৃঙ্গ আলিশা গিরি, ব্রাংসা, চাপচিঙাল পাস, কনিষ্ক পিক, কারুন পির পর্বত, কুকসেল, মার্তান্দ গিরি, পারপিক হিমবাহ, স্কামরি হিমবাহ, শাচমিরিক পাস, শোরগা উপত্যকা, জোরাওয়ার পিক, দেহরা কম্পাস এবং দ্রাক কারপো। তালিকায় আরও স্থান পেয়েছে জোলোরি, কুমারায়ন পয়েন্ট, পাংলুং, রিনচেন জাংপো, শাক্যশ্রী গিরি, গুরু রিনপোচে, শামাল লুংসপা, ইয়াংপা নদী, মারপা লোতসাভা রি, মিলাপেপা কাংরি, শিবা রি এবং মহেশ্বরী রি।
ভারতের এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বেইজিং। চীনা সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং ভারতের এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ ও বাতিলযোগ্য’ বলে অভিহিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভারত একতরফা ও বেআইনিভাবে যে ‘তথাকথিত লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠা করেছে, তা বেইজিং কখনো স্বীকৃতি দেয়নি এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ জানায়।
২০২০ সালের জুনে পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় ও চীনা সেনাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর থেকে সীমান্ত পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
দুই দেশের মধ্যে সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) বরাবর একে অপরকে ভূখণ্ড দখলের চেষ্টার অভিযোগের পটভূমিতে লাদাখের এই কৌশলগত স্থানগুলোর সুনির্দিষ্ট নামকরণ ও মানচিত্রায়ণ দুই দেশের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকর সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন