প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় সংসদের প্রতিটি অধিবেশনের কার্যক্রম, বিল বা আইন পাস, সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি এবং ভোট দেওয়ার রেকর্ড ই-পার্লামেন্টের মাধ্যমে সরাসরি অনলাইনে যুক্ত হবে। এই ব্যবস্থা চালু হলে সাধারণ নাগরিকরা সহজেই জানতে পারবেন, তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধি সংসদে কীভাবে কাজ করছেন এবং কোন বিষয়ে কীভাবে ভোট দিচ্ছেন।
গতকাল মঙ্গলবার সংসদ ভবনে জাতীয় সংসদের ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির প্রথম সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য ও হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) এসব তথ্য জানান। সংসদ ভবনের টানেলে এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
এ বি এম আশরাফ উদ্দিন উল্লেখ করেন, নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে একটি অনলাইন পোর্টাল বা অ্যাপ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা কোনো খসড়া আইন পাসের আগে তাঁদের মতামত ও পরামর্শ দিতে পারবেন। পাশাপাশি ই-পিটিশন দাখিল এবং গ্রাম থেকে বসে যেকোনো অভিযোগ সরাসরি সংসদের কমিটির কাছে পাঠানোর সুযোগ থাকবে।
তিনি আরও বলেন, সংসদকে কাগজবিহীন (পেপারলেস) করতে হবে। সংসদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে প্রতিদিন কয়েক টন কাগজ ব্যবহার হয়, যা পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে কাগজের প্রয়োজন নেই।
এ বি এম আশরাফ উদ্দিন জানান, এই সংসদকে যুগোপযোগী এবং ই-পার্লামেন্টে রূপান্তর করা আমাদের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল। বাংলাদেশের নাগরিক যেন আমাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে। পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংসদে কাগজের ব্যবহার বন্ধ করে পেপারলেস পার্লামেন্ট গড়ে তুলতে ই-পার্লামেন্ট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি এবং বিরোধী দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক সংসদ গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
সভায় কমিটির সভাপতি ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য হিসেবে এ বি এম আশরাফ উদ্দিন ছাড়াও সংসদ সদস্য নায়াব ইউসুফ আহমেদ, সাঈদ আল নোমান, হুমাম কাদের চৌধুরী, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আখতার হোসেন, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ ও আন্না মিন্জ অংশগ্রহণ করেন।
সভায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচিতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পের নাম ‘ই-পার্লামেন্ট’ পরিবর্তন করে ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সময় প্রকল্পের ওপর একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন ছাড়াও সংসদীয় কার্যক্রমকে অধিকতর আধুনিক, গতিশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়ন, বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং প্রকল্পের আওতাভুক্ত কাজের পুনরাবৃত্তি পরিহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এছাড়া প্রকল্পের আওতায় সাউন্ড সিস্টেমসহ অন্যান্য কার্যক্রমের মধ্যে যাতে কোনো পুনরাবৃত্তি বা কাজের দ্বৈততা না থাকে, তা নিশ্চিত করতে বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে একটি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তিন সদস্যের একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হচ্ছেন সাঈদ আল নোমান, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ ও আন্না মিন্জ। উপ-কমিটিকে প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিস্তারিত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন মূল কমিটির কাছে উপস্থাপনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সভায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংসদ সচিবালয়ের সাংগঠনিক সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত সহায়তা দেওয়ার জন্য দুজন অথবা ক্ষেত্রবিশেষে তিনজন পরামর্শক নিয়োগের সুপারিশ করেছে এ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি। পরামর্শক নিয়োগের ক্ষেত্রে ইউএনডিপির সঙ্গে পরামর্শ গ্রহণের সুপারিশও করেছে কমিটি।
গতকাল সংসদ ভবনে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের জনবল-সংক্রান্ত বিষয়াদি সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা পরবর্তী কমিশন বৈঠকে উপস্থাপনের লক্ষ্যে গঠিত কমিটির দ্বিতীয় সভায় এ সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি ও সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিষ্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সভায় কমিটির সদস্য চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, কাজী রফিকুল ইসলাম, সেলিম রেজা ও শাম্মী আক্তার অংশগ্রহণ করেন।
সভায় সংসদ সচিবালয়ের অর্গানাইজেশনাল রিফর্ম এবং বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি সার্ভিস গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন