প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর মিরপুরে ছিনতাইয়ের পর পোশাককর্মী সায়মনকে হত্যা করার ঘটনায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। একই মামলায় সুজন নামে একজনকে চোরাই মোবাইল কেনার দায়ে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন মো. ইউসুফ, ইকবাল খাঁ ও মেহেদী হাসান। তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলামের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহেল মিয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রায় ঘোষণার পূর্বে কারাগারে থাকা ইউসুফ, ইকবাল ও মেহেদীকে আদালতে হাজির করা হয়। রায়ের পর তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। পলাতক সুজনের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানার পাশাপাশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, সায়মন মিরপুর-১-এর সনি সিনেমা হলের পেছনে লিবার্টি গার্মেন্টসে ১০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতেন। ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর বেতন পাওয়ার পর তিনি দুই সহকর্মী রিফাত হোসেন রাব্বি ও হৃদয় হাসানের সঙ্গে মিরপুর-১ এলাকায় কেনাকাটা করতে যান। রাত ৯টার দিকে বাসায় ফেরার সময় আড়ং শপিং সেন্টারের সামনে তিন ছিনতাইকারী তাকে থামায়।
তাদের একজন সায়মনকে তার ছোট ভাইকে মারধরের অভিযোগ তুলে ভয় দেখায় এবং ‘কথা আছে’ বলে রিকশায় উঠিয়ে নেয়। পরবর্তীতে রিকশাটি দারুস সালাম থানার কোনাবাড়ি হয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ এলাকার কাঁচাবাজারের সামনে যায়। সেখানে সায়মনের সহকর্মী রিফাতকে নামিয়ে দিয়ে তাকে স্মৃতিসৌধের ভেতরে নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।
সেখানে ছুরি দেখিয়ে সায়মনের কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন দিতে বলে তারা। সায়মন দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ছুরিকাঘাত করে টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় সায়মনের বাবা শাজাহান শেখ দারুস সালাম থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। তদন্তের সময় পুলিশ ইউসুফকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইকবাল ও মেহেদীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে সায়মনের মোবাইল সুজনের কাছে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রির তথ্যও পাওয়া যায়। ইউসুফের কাছ থেকে মোবাইল বিক্রির টাকা উদ্ধার করা হয়।
তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি ইউসুফ, ইকবাল ও মেহেদীর বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের পর হত্যার অভিযোগে এবং সুজনের বিরুদ্ধে চোরাই মাল নিজের কাছে রাখার অভিযোগে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দারুস সালাম থানার উপপরিদর্শক সোহান আহমেদ।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ, আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক শেষে মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন