প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে আলোচিত শিশু ধর্ষণ মামলায় মোক্তার আলী নামে এক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুরে আসামির উপস্থিতিতে লালমনিরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিত্যানন্দ সরকার এ রায় ঘোষণা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এ সাজা দেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে পাটগ্রাম উপজেলার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ১১ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়। শিশুটির বাবা দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাতেন। অভিযুক্ত মোক্তার আলী তাদের প্রতিবেশী হওয়ায় শিশুটি তাকে ‘দাদু’ বলে ডাকত। সেই পরিচিতির সুযোগ নিয়ে আসামি শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হলে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আলকাছ হোসেন ২০২০ সালের ২৬ মে পাটগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে পুলিশ এবং তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
মামলার দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান বলেন, ১১ বছর বয়সী শিশুটিকে ধর্ষণের ঘটনায় আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। এ রায়ের মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শিশুদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর বার্তা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন