প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বয়স তার ১১০ বছর। শরীরের অবস্থা নুয়ে পড়েছে। চলাফেরা করতে হয় লাঠির সাহায্যে। তবুও মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং সেবার স্মৃতি বহন করছেন তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের শেষ বিদায়ের সঙ্গী হিসেবে কাটিয়েছেন। বিনা পারিশ্রমিকে শতাধিক মানুষের কবর খুঁড়েছেন তিনি। তিনি হলেন হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসভার শিবপুর গ্রামের সমসু মিয়া।
যখনই কারও মৃত্যুর খবর আসতো, তখনই কোদাল ও শাবল হাতে ছুটে যেতেন সমসু মিয়া। রোদ, বৃষ্টি কিংবা শীত—কোনো কিছুই তাকে থামাতে পারতো না। তিনি কোনো টাকা-পয়সার প্রত্যাশা করতেন না। তার কাছে ছিল শুধু মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা। সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় তিনি বছরের পর বছর ধরে এই কাজ করে গেছেন।
শিবপুর গ্রাম এবং আশপাশের এলাকায় তিনি ছিলেন মানুষের ভরসা। যখনই কোনো বাড়িতে মৃত্যুর খবর আসতো, তখনই ডাক পড়তো তার। শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়াতেন তিনি। কবরের স্থান নির্ধারণ করতেন এবং নিজ হাতে মাটি কাটতেন। নীরবে এই কঠিন দায়িত্ব পালন করতেন।
স্থানীয় প্রবীণদের মতে, সমসু মিয়া শুধু নিজে কবর খনন করেননি, বরং অনেক তরুণকেও শিখিয়েছেন কিভাবে নিয়ম মেনে কবর খুঁড়তে হয়। তার কাছে এই কাজটি ছিল কোনো পেশা নয়, বরং মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসার প্রকাশ।
কিন্তু সময়ের সাথে সাথে শরীরের শক্তি পরিবর্তিত হয়েছে। ১১০ বছর বয়সে এখন আর আগের মতো শক্ত মাটি কাটতে পারেন না। তবুও কারও মৃত্যুর খবর পেলে ছুটে যান। নিজে কবর খুঁড়তে না পারলেও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
শারীরিক দুর্বলতা তাকে পুরোপুরি থামাতে পারেনি। লাঠিতে ভর দিয়ে প্রায় ৬০ মিটার দূরের মসজিদে গিয়ে এখনো জামাতে নামাজ আদায় করেন তিনি।
সমসু মিয়ার কাছে মৃত্যু জীবনের ক্ষণস্থায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়। তার বিশ্বাস, একদিন সবাইকে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। মানুষের শেষযাত্রায় পাশে থাকতে পারাটাই তার জীবনের বড় তৃপ্তি।
শিবপুর গ্রামের সাংবাদিক সাব্বির হাসান জানান, গ্রামবাসীর কাছে সমসু মিয়া আজ আর শুধু একজন শতবর্ষী মানুষ নন। তিনি নিঃস্বার্থ সেবা ও পরোপকারের এক জীবন্ত উদাহরণ। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও তার নেই কোনো বড়াই। নেই কোনো প্রতিদানের প্রত্যাশা।
মানুষের শেষ ঠিকানা কবর। আর সেই কবর খুঁড়েই সমসু মিয়া জীবনের একটি বড় অংশ কাটিয়ে দিয়েছেন নীরবে, নিঃস্বার্থভাবে। তার এই মানবসেবা শিবপুর গ্রামের মানুষের হৃদয়ে দীর্ঘকাল বেঁচে থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন