প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার কারণে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ তিন কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার হওয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটররা হলেন আকাশ সরকার, সুরজিৎ শী এবং শ্রীময়ী চক্রবর্তী। এই তথ্য দেশটির তথ্য যাচাইকারী সংস্থা অল্ট নিউজের একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
এই ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা এবং বাক্স্বাধীনতা নিয়ে রাজ্যজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের মধ্যে আকাশ সরকার তিনদিন পুলিশ হেফাজতে থাকার পর গত ২৯ অক্টোবর আদালত থেকে জামিন পেয়ে মুক্তি পান।
অন্যদিকে, শ্রীময়ী চক্রবর্তীকে গত ২৬ অক্টোবর ব্যক্তিগত বন্ডে মুক্তি দেওয়া হয় বিধাননগর পূর্ব থানার পক্ষ থেকে। তবে, সুরজিৎ, যিনি ‘কোর বাংলা জনগণঠা’ নামের একটি জনপ্রিয় ফেসবুক পেজের উপস্থাপক এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর, এখনও পুলিশ হেফাজতে আছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সুরজিতের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, দুর্গাপূজার সময় চোরবাগানে পদদলিত হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন। সুরজিতের পরিবার অভিযোগ করেছে যে, তাঁকে গ্রেপ্তারের আগে স্থানীয় বিজেপি এবং আরএসএস কর্মীরা তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায়। পরে তাঁদের ছেলে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
সুরজিতের আইনজীবী এবং স্বজনদের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাজানো মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে, দুর্গাপূজার পদদলিত হওয়ার ঘটনা এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে উদ্দেশ্য করে কটাক্ষমূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে আকাশ সরকারকে গত ২৫ অক্টোবর নাগেরবাজারের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আকাশের দাবি, পূজামণ্ডপে বিশৃঙ্খলা এবং প্রতিমা বিসর্জনে প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলার কারণে তাঁকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। এছাড়া, ‘তিন বাটি’ নামে রাজনৈতিক কটাক্ষ এবং মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণে শ্রীময়ী চক্রবর্তীকে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
এই তিন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিরুদ্ধে পুলিশের এসব পদক্ষেপের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাক্স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক সমালোচনার অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন