প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট পারস্পরিক সম্মতিতে গড়ে ওঠা যৌন সম্পর্কের ভেঙে যাওয়ার পর সেটিকে যৌন নির্যাতন হিসেবে উপস্থাপনের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আদালত একই সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছে, "কোনো পুরুষের কি সম্পর্ক শেষ করার অধিকার নেই?"।
শুক্রবার আদালত উল্লেখ করেছে, কোনো সম্পর্ক ভেঙে গেলে পূর্বে পারস্পরিক সম্মতিতে হওয়া শারীরিক সম্পর্ককে পরে ধর্ষণ বলা যাবে না। বিচারপতি বি. ভি. নাগারথনার বেঞ্চ কেরালা থেকে আসা একটি মামলার শুনানি শেষে এই মন্তব্য করেন। মামলাটিতে সাত বছরের একটি সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পর এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছিল। অভিযোগকারী নারীর দাবি ছিল, ওই ব্যক্তি তার আগের বিয়ে ও দুই সন্তানের তথ্য গোপন রেখেছিলেন।
আদালত জানায়, দুই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সম্মতিতে গড়ে ওঠা সম্পর্কে আবেগজনিত বিরোধ দেখা দিলে ফৌজদারি আইনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। আদালত আরও বলেছে, সমাজ ও আদালতেরও এ ধরনের প্রবণতা নিরুৎসাহিত করা প্রয়োজন।
বিচারপতিরা বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা যাচ্ছে, পারস্পরিক সম্মতিতে গড়ে ওঠা সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর অতীতের ঘটনাগুলো নতুন করে বিশ্লেষণ করে সেগুলোকে যৌন নির্যাতন বা সহিংসতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, শুরু থেকেই প্রতারণা বা মিথ্যা বলে কারও সম্মতি আদায় করা এবং সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর আগের সম্মতিতে হওয়া যৌন সম্পর্ক নিয়ে অনুশোচনা, দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
আদালত আরও উল্লেখ করে, কোনো সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলেই সেই সম্পর্কে আগে পারস্পরিক সম্মতিতে হওয়া যৌন সম্পর্ক অপরাধ হয়ে যায় না। এমন অভিযোগ কারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সুনামের ক্ষতি করতে পারে।
আদালত আরও বলেছে, এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি একজন পুরুষের নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেড়ে নেয়। অতীতে কোনো সময় পারস্পরিক সম্মতিতে সম্পর্কে জড়ানোর কারণে পরবর্তী সময়ে সম্পর্ক থেকে সরে আসতে গেলেই ধর্ষণের অভিযোগের ভয় তৈরি হতে পারে।
বিচারপতিরা প্রশ্ন করেছেন, "কোনো পুরুষের কি সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার অধিকার নেই?" সম্পর্ক শেষ করার সিদ্ধান্তকে কি প্রতারণা বলা যায়? আদালতের মতে, নিশ্চয়ই না।
বেঞ্চটি জানায়, প্রায়ই এমন মামলার মুখোমুখি হতে হয়, যেখানে ব্যর্থ প্রেমের সম্পর্ককে ফৌজদারি মামলায় রূপ দেওয়া হয়। তবে ধর্ষণ অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। প্রকৃত যৌন সহিংসতা, জোরজবরদস্তি কিংবা প্রতারণার মাধ্যমে সম্মতি আদায়ের ঘটনা ঘটলেই কেবল এ ধরনের অভিযোগ আনা উচিত।
একই সঙ্গে আদালত স্বীকার করেছে, ধর্ষণের অনেক ঘটনা এখনো লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে যায়। সামাজিক ও পারিবারিক সম্মান রক্ষার কথা ভেবে অনেক ভুক্তভোগী এ বিষয়ে মুখ খুলতে চান না। বিচারপতিরা বলেছেন, যেসব ঘটনায় তথ্য-প্রমাণ যৌন সহিংসতা বা নির্যাতনের ইঙ্গিত দেয়, সেগুলোর অবশ্যই পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন