প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের অব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ক্যানুলা, স্যালাইনসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী নগরের শম্ভুগঞ্জ এলাকার একটি বর্জ্য সংরক্ষণাগারে পাওয়া যাচ্ছে। এসব সামগ্রীর মেয়াদ ২০২৮ ও ২০৩১ সাল পর্যন্ত থাকলেও, হাসপাতাল থেকে বর্জ্যের সঙ্গে সেগুলো কীভাবে বাইরে যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মমেক হাসপাতাল বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন এখানে হাজারো রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগের মধ্যে অব্যবহৃত চিকিৎসাসামগ্রী বর্জ্য সংরক্ষণাগারে পাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শম্ভুগঞ্জের ওই বর্জ্য সংরক্ষণাগারে কয়েক বস্তা সিরিঞ্জ, ক্যানুলা, স্যালাইনসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী পাওয়া গেছে। এসব সামগ্রীর মেয়াদ শেষ হতে এখনো কয়েক বছর বাকি। বর্জ্য সংগ্রহ ও বাছাইয়ের কাজে যুক্ত শ্রমিকদের দাবি, বর্জ্যের সঙ্গে আসা নতুন চিকিৎসাসামগ্রী আলাদা করে রাখা হয়। পরে কিছু সামগ্রী হাসপাতালে ফেরত দেওয়া হয় এবং অবশিষ্টগুলো পাইকারি দরে বিক্রি করা হয়।
বর্জ্য সংগ্রহ ও বাছাইয়ের কাজে যুক্ত শ্রমিক জুবেদা খাতুন জানিয়েছেন, এ কাজে ১১ জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজন মমেক হাসপাতাল থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করেন। অন্য সাতজন বর্জ্য সংরক্ষণাগারে সেগুলো বাছাই করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন বর্জ্যের সঙ্গে নতুন সিরিঞ্জ, ক্যানুলা ও স্যালাইন আসে। এগুলো আলাদা বস্তায় রাখা হয়। ১০ থেকে ১২ দিন পর তিন থেকে চার বস্তা জমলে সেগুলো হাসপাতালে ফেরত দেওয়া হয়। অবশিষ্ট সামগ্রী পাইকারি দরে বিক্রি করা হয়।
হাসপাতালের অব্যবহৃত চিকিৎসাসামগ্রী কীভাবে বর্জ্য সংরক্ষণাগারে যাচ্ছে, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সংগঠন ময়মনসিংহ মঞ্চের মুখ্য সমন্বয়ক ইমতিয়াজ আহমেদ। তিনি বলেন, এসব সামগ্রী হাসপাতালের বাইরে যাওয়ার ঘটনায় কর্তৃপক্ষের দায় ও তদারকির বিষয়টি খতিয়ে দেখা জরুরি। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে ঠিকাদার আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর কর্মকর্তা ঝন্টু সরকার জানিয়েছেন, অব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ক্যানুলা, স্যালাইনসহ চিকিৎসাসামগ্রী হাসপাতালের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, এসব সামগ্রী হাসপাতালের বাইরে যাওয়ার সুযোগ না থাকলে সেগুলো কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ছুটি শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ডেকে জবাবদিহি চাওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন মমেক হাসপাতাল থেকে ৩৫ থেকে ৪০ ভ্যানগাড়ি বর্জ্য সরানো হয়। এসব বর্জ্য থেকে প্রতি সপ্তাহে তিন থেকে কয়েক বস্তা অব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ক্যানুলা, স্যালাইনসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন