প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কাতালান পুলিশ এল ক্লাসিকোয় রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের উদ্যাপনের সময় এদুয়ার্দো ক্যামাভিঙ্গাকে পতাকার দণ্ড দিয়ে আঘাতকারী বার্সেলোনা সমর্থককে শনাক্ত করেছে। মোসোস দ'এসকোয়াদ্রা ওই সমর্থকের বিরুদ্ধে স্পেনের ক্রীড়া আইনে প্রশাসনিক অভিযোগ দায়ের করেছে। লা লিগা জানিয়েছে, ঘটনার তদন্তে বার্সেলোনার নিরাপত্তা বিভাগ পুলিশকে সহযোগিতা করেছে এবং অভিযুক্ত সমর্থককে ক্লাবের শৃঙ্খলা কমিটির কাছে পাঠানো হবে।
এই ঘটনাটি ঘটে ২৫ অক্টোবর ক্যাম্প ন্যুতে রিয়াল মাদ্রিদের ২-১ গোলের জয়ের ম্যাচে। কিলিয়ান এমবাপ্পের দ্বিতীয় গোলের পর রিয়ালের খেলোয়াড়েরা গ্যালারির কাছাকাছি গিয়ে উদ্যাপন করার সময় কয়েকজন বার্সা সমর্থক পতাকার দণ্ড দিয়ে তাদের দিকে হামলার চেষ্টা করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, ক্যামাভিঙ্গা নিজের মুখ রক্ষার চেষ্টা করছেন। একই সময়ে গ্যালারি থেকে বোতল, ক্যান, লাইটার ও ভেপ মাঠে ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। লা লিগার হিসাবে, ম্যাচটি সাময়িকভাবে থামিয়ে প্রায় ১ মিনিট ২০ সেকেন্ড পর পুনরায় শুরু করতে হয়।
পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত সমর্থক বার্সেলোনার গ্রাদা ১৯৫৭-এর একটি সমর্থকগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত। ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর ফলে ৩ হাজার থেকে ৬০ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা এবং ছয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত ক্রীড়া ভেন্যুতে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা হতে পারে। অপরাধটি যদি ‘অত্যন্ত গুরুতর’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হয়, তাহলে জরিমানা ৬০ হাজার ১ ইউরো থেকে ৬ লাখ ৫০ হাজার ইউরো এবং নিষেধাজ্ঞা দুই থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত শাস্তি ঘোষণা হয়নি।
ঘটনার পর ক্যাম্প ন্যুর নিরাপত্তা ও ম্যাচ ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে খেলোয়াড়দের উদ্যাপনের জায়গা থেকে দর্শকদের দূরত্ব, পতাকার দণ্ডের মতো বস্তু গ্যালারিতে প্রবেশের নিয়ন্ত্রণ এবং একসঙ্গে একাধিক সমর্থকের মাঠের দিকে বস্তু ছোড়ার ঘটনা—সবকিছুই নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। লা লিগার প্রতিবেদনে এল ক্লাসিকো ঘিরে মোট ১৭টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
বিশেষ করে ক্যামাভিঙ্গার ঘটনা ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতা সামনে এনেছে। খেলোয়াড়েরা যখন গোল উদ্যাপন করতে গ্যালারির খুব কাছে চলে যান, তখন মাঠ ও দর্শকের মধ্যকার নিরাপত্তা ব্যবধান কতটা কার্যকর ছিল, সেটি এখন আলোচনায়। একই ম্যাচে গ্যালারি থেকে একাধিক বস্তু মাঠে যাওয়ার ঘটনাও দেখিয়েছে যে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে দর্শক নিয়ন্ত্রণ ও নিষিদ্ধ বস্তু শনাক্তকরণ আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন। তবে পুলিশকে অভিযুক্ত শনাক্ত করতে বার্সেলোনার নিরাপত্তা বিভাগের সহযোগিতা করার বিষয়টিও লা লিগা উল্লেখ করেছে।
এল ক্লাসিকোর নিরাপত্তা বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে রিয়াল সমর্থক ফ্রান্তিশেক ভাভরেক ও তাঁর ১৮ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে আরেক ঘটনায়। ভাভরেকের দাবি, এমবাপ্পের গোল উদ্যাপন করার পর তাদের গ্যালারি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত ট্যাক্সিতে বসে মোবাইলে ম্যাচের বাকি অংশ দেখতে হয়। তিনি দাবি করেছেন, চারটি প্রথম শ্রেণির টিকিটের জন্য মোট ৫,৬০০ ইউরো খরচ করেছিলেন। স্টেডিয়ামে ঢোকার সময় নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি নিয়ে আপত্তি জানান এবং জার্সিগুলো ডাস্টবিনে ফেলে দিতে বলার মত গুরুতর অভিযোগও করেছেন তিনি।
দুই ঘটনাই ক্যাম্প ন্যুর ম্যাচ-ডে ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভিন্ন ধরনের প্রশ্ন সামনে এনেছে। একদিকে প্রতিপক্ষের সমর্থকদের নিরাপত্তা ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে খেলোয়াড়দের কাছে দর্শকদের পৌঁছানোর সুযোগ। ফলে ক্যামাভিঙ্গাকে আঘাতের ঘটনায় ব্যক্তিগত শাস্তির পাশাপাশি বড় ম্যাচে নিরাপত্তা পরিকল্পনা, দর্শক তল্লাশি এবং গ্যালারি নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নিয়েও বার্সেলোনার জন্য নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন