প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে, যা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের পরিকল্পিত ‘সন্ত্রাসের’ বিরুদ্ধে দেশব্যাপী নৈরাজ্যের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিক্ষোভটি বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়। এরপর মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা প্রদক্ষিণ করে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। এতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, “যারা সন্ত্রাসী, যারা আগুন লাগাচ্ছে, যারা বোমাবাজি করছে, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার শত্রু, গণতন্ত্রের শত্রু। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সবাই সজাগ থাকবেন, সবাই প্রস্তুত থাকবেন।”
তিনি আরও বলেন, “এই যে পরিকল্পিত ঘটনা, আজকে পত্রিকায় এসেছে বিদেশি নম্বর থেকে নির্দেশনা আসছে। টেলিফোন নম্বরটি কার? কে এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নির্দেশ দিচ্ছে? ফোন নম্বরটি হচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশের। তাহলে বুঝুন ষড়যন্ত্রের গভীরতা কত দূরে।”
রিজভী বলেন, “যখন প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে বক্তব্য রাখছেন এবং সেখানেও দেশের রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ এবং মর্যাদাপূর্ণভাবে তাদের প্রত্যাবাসনের কথা, সেখানে আরও নানা বিষয় আন্তর্জাতিকভাবে আজকে জ্বালানি সংকট, গ্যাসের সংকট, সেগুলো নিয়ে কথা বলা হচ্ছে। যদি গ্যাস অ্যাভেইলেবল হয়, যদি জ্বালানি তেলের জাহাজগুলো আসা শুরু করে, তাহলে আবারও মূল্য সমন্বয় করা হবে।”
তিনি উল্লেখ করেন, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটা সরকার জনগণকে কখনো কষ্ট দিতে চায় না, চায়নি। ক্ষমতায় আসার পর যুদ্ধ শুরু হয়েছে। অনেক আগেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কথা, কিন্তু সেটাকে রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা জাতীয় স্বার্থের সরকার, জনগণের পক্ষের সরকার, দেশের স্বাধীনতার পক্ষের সরকার, তারেক রহমানের সরকার।”
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “আমরা আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য দেখেছি, আমরা তাদের ফ্যাসিস্ট ভূমিকা দেখেছি। আজকে এই সংগঠন সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ। তাদের দুর্নীতি-দুঃশাসন আমরা দেখেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের দেশের জন্য কাজ করছি, লড়াই করছি। উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রেখেছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা একটা পরিকল্পনা নিয়ে উন্নয়ন এবং পাশাপাশি আমাদের রাজপথের কর্মকাণ্ডও আমরা ঠিক রেখে এই যে আমাদের লড়াই, এই যে আমাদের সংগ্রাম এটা চালিয়ে যাচ্ছি।”
এ্যানি বলেন, “আপনারা লক্ষ্য করেছেন- কিছুদিন যাবত ওই নিষিদ্ধ সংগঠন আরেকটা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। বিভিন্নভাবে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে কায়েম করতে চায়। তারা পালিয়েছে পাঁচ আগস্ট। দেশের বাইরেও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। দেশের ভেতরে থেকেও অনেকেই আরেকটা অপশক্তিকে সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।”
তিনি জানান, “দুইটা অপশক্তির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই-সংগ্রাম চলছে।”
বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, “দেশনায়ক তারেক রহমান যখন এই বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে সচল করার জন্য নতুন বাংলায় যাওয়ার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, ঠিক তখনই এই আট মাসের সরকারকে বিপদে ফেলার জন্য প্রতিষ্ঠিত একটি মহল এবং দেশের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা একটি চক্র বাংলাদেশের উন্নয়নকে ব্যাহত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।”
তিনি বলেন, “বেশ কয়েকদিন যাবত বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নভাবে বাসে অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে। মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে উন্নয়নকে ব্যাহত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে তারা।”
বকুল বলেন, “জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং জাতীয়তাবাদী দল ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন বিগত ১৭ বছরে বিভিন্ন চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজকে এখানে এসে দাঁড়িয়েছে। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী জীবন দিয়েছে, গুম হয়েছে। দেশের স্বার্থে কখনো তারা পিছু হটেনি এবং হতে জানেও না।”
তিনি আরও বলেন, “যখনই ক্রান্তিকাল এসেছে, দুঃসময় এসেছে, তখনই বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠন এবং তাদের নেতাকর্মীরা জনগণের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। জনগণ যখন সুযোগ পেয়েছে, বিএনপিকে ভোট দিয়ে বিএনপিকে দেশ গঠনের, দেশ রক্ষার সুযোগ দান করেছে।”
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, “বাংলাদেশে আমরা যেভাবে ফ্যাসিস্টদের কোনো আস্তানা রাখতে দেব না, ঠিক একইভাবে আমরা আজকের থেকে প্রতিজ্ঞা করছি যারা কালচারাল ফ্যাসিস্ট, যারা ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীদেরকে বাংলাদেশে পুনর্বাসন করতে চায়, আমরা তাদেরকে সরাসরি প্রতিহত করব। কোনো কালচারের ফ্যাসিস্টকে এই বাংলাদেশে আস্তানা করতে দেব না। এটি আজকের দিনের প্রতি আমাদের প্রতিজ্ঞা।”
রাকিব বলেন, “সেই সঙ্গে বিরোধী দলকে শুধু বলতে চাই- ১৯৯৬ সালের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন না। আমরা ইতোমধ্যে সংশয় প্রকাশ করছি আপনাদের ভূমিকা নিয়ে। সে ধরনের আওয়ামী লীগের বিষয়ে আপনারা ১৯৯৬ এবং ১৯৮৬ সালের ভূমিকা পালন করছেন। সংশোধন হবেন। তা না হলে ছাত্র-জনতা প্রতিহত করবে।”
সমাবেশে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন