প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
একসময় সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলা চরমপন্থি সর্বহারা সদস্যদের সশস্ত্র কার্যকলাপে আতঙ্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। সাধারণ মানুষের জীবন ছিল উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ভরা, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ছিনতাই ও হত্যার মতো ঘটনার কারণে। সেই অন্ধকার অতীতকে পেছনে ফেলে, স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রত্যয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থি সদস্য।
রোববার দুপুরে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১২-এর সদর দপ্তরে ‘নতুন পথে প্রত্যাবর্তন: চরমপন্থি সর্বহারা সদস্যদের আত্মসমর্পণ-২০২৬’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মিস ফারজানা শারমীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনের সংসদ সদস্য মো. আমিরুল ইসলাম খান আলিম, এসআরবি ফোর্সেসের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবিব পলাশ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল ইফতেখার আহমেদ, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ এবং রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) শাহানা আখতার জাহান।
এসআরবি-১২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আতিকুর রহমান মিয়া অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ। এ সময় সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সান্তুসহ এসআরবি ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন এসআরবি-১২ কর্তৃক করা হয়।
আত্মসমর্পণ করতে আসা মো. মাজেদ আলী মুন্সী বলেন, ‘অন্ধকারের পথ ছেড়ে আলোর পথে আসতে পেরে আজ খুবই ভালো লাগছে।’ অন্যদিকে, আইনুল হোসেন, আরেক আত্মসমর্পণকারী, বলেন, ‘ভুল পথে চলতে চলতে অনেক কিছু হারিয়েছি। এভাবে ১৫ বছর কেটে গেছে। আমার সাথি ভাইয়েরা অনেক সময় বলতেন, অনেক দিন ধরে বাড়িতে যাওয়া হয় না।’
আত্মসমর্পণকারী মো. আলম সেখ বলেন, ‘আমরা একসময় বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতাম। যখন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও পেতাম না, তখন অনেকেই দস্যুবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়তেন।’
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে পরিবার ও সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, রাজবাড়ীসহ আশপাশের জেলাগুলোতে একসময় মার্কস-লেনিন ও মাওবাদী আদর্শের নামে ১৪টি চরমপন্থি সংগঠন সক্রিয় ছিল। এর মধ্যে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল-লাল পতাকা), পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি (এমবিআরএম) ও পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি (জনযুদ্ধ) উল্লেখযোগ্য। ১৯৬৮ সাল থেকে এসব সংগঠনের বিস্তার শুরু হয়। আশি ও নব্বইয়ের দশকে সংগঠনগুলোর কার্যকলাপ ব্যাপক আকার ধারণ করে। পরবর্তী সময়ে আধিপত্য বিস্তার ও নেতৃত্বের দ্ব›েদ্ব বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে সংগঠনগুলোর সদস্যরা। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
চরমপন্থি তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে ১৯৯৮ সালে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে শতাধিক চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। এরপর ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল পাবনায় পুলিশের কাছে ৫৯৬ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। ২০২৩ সালের ২১ মে সিরাজগঞ্জে তৎকালীন র্যাব-১২ কার্যালয়ে সাত জেলার আরও ৩২৩ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।
এই ধারাবাহিকতায় এবার সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ জন সদস্য আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন