প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার শ্রমিক পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে, এমনটি জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। রবিবার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি এই তথ্য প্রদান করেন।
শ্রমমন্ত্রী উল্লেখ করেন, তবে শ্রমিকদের পাঠানোর আগে মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতাদের চাহিদার ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ প্রদান করে শ্রমিকদের দক্ষতা নিশ্চিত করা হবে। এরপর বাংলাদেশে এসে নিয়োগদাতারা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রমিক নির্বাচন করবেন।
মন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়া ১০ হাজার শ্রমিক নেবে। এই ১০ হাজার শ্রমিকের মধ্য থেকেই বিনামূল্যে শ্রমিক পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তীতে মালয়েশিয়া থেকে আসা বিভিন্ন ধরনের চাহিদার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) এবং অন্যান্য অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানো হবে।
শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়ায় দক্ষতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে শ্রমমন্ত্রী বলেন, শ্রমিক পাঠানো হলেই হবে না, বরং মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ শ্রমিক পাঠানো প্রয়োজন। প্রশিক্ষণ ছাড়া শ্রমিক পাঠানোর ফলে তারা দেশটিতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে পারেন। এজন্য মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতাদের চাহিদা আগে নির্ধারণ করে সেই অনুযায়ী শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে।
আরিফুল হক চৌধুরী জানান, সরকার চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শ্রমিক প্রস্তুত করতে চায়। মালয়েশিয়ায় যারা শ্রমিক নেবেন, তারা বাংলাদেশে এসে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রমিক বাছাই করবেন। এরপর নির্বাচিত শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হবে।
এ প্রক্রিয়ায় বোয়েসেলের পাশাপাশি অন্যান্য অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সিকেও যুক্ত করা হবে। তবে শ্রমিক পাঠানোর পূর্বে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াগুলো চূড়ান্ত করতে হবে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
এদিকে, শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়ার সব কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। মন্ত্রী জানান, শ্রমিকদের মেডিকেল পরীক্ষাসংক্রান্ত প্রক্রিয়াও এখনো অনুমোদন করা হয়নি। মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে শ্রমিকের চাহিদা এবং অন্যান্য বিষয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে এর আগে বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের অভিযোগ ও শ্রমিকদের হয়রানির বিষয়টি সামনে এসেছিল। এবার এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সরকার সতর্ক রয়েছে বলে জানান শ্রমমন্ত্রী। চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত শ্রমিক পাঠানোর মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
এদিকে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে শ্রমিক পাঠানোর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন শ্রমমন্ত্রী। তিনি বলেন, চলতি বছরেই এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার চালু করা হবে।
এই সেন্টারের মাধ্যমে অনলাইন ও অফলাইন দুই পদ্ধতিতে চাকরিপ্রার্থী এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মীর চাহিদার একটি ডাটাবেস তৈরি করা হবে। বিভিন্ন শিল্পে শ্রমিক ও কর্মচারীর চাহিদা নির্ধারণের পাশাপাশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে জব ফেয়ার এবং ক্যারিয়ার ফেয়ারের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থী খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেয়া হবে। এছাড়া চলতি মাসের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে বলেও জানিয়েছেন শ্রমমন্ত্রী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন