প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আশাশুনি উপজেলার হাসাঁখালী গ্রামে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তার হেরিংবন্ডের ইট তুলে আত্মসাৎ ও অন্য রাস্তার ইট তুলেনিয়ে কাবিটা কর্মসূচির কাজ করে বিল উত্তোলনের অভিযোগ স্থানীয় ইউপি সদস্য মঙ্গল চন্দ্রের বিরুদ্ধে উঠেছে। এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন, যাতে তদন্ত পূর্বব মেম্বারের শাস্তি এবং ইট উঠিয়ে নেয়া রাস্তা দ্রুত সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, উত্তর গাইয়াখালী ব্রিজ হতে হাসাঁখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের ১ কিলোমিটার মত রাস্তাটি এলাকার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। এই রাস্তা ইটদিয়ে (হেরিংবন্ড) তৈরি ছিল। কয়েক মাস আগে সদর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মঙ্গল চন্দ্র সরকার আনুমানিক ৫০ হাজার ইট উত্তোলন করে নিয়ে যান।
গ্রামবাসীরা ইট তোলায় বাধা দিলে ইউপি সদস্যের লোকজন তাদেরকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে রাস্তার ইট তুলে ফেলার কারণে চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া রাস্তা থেকে নেয়া ইটের মধ্যে কিছু ইট পাশে কাবিটা কর্মসূচির রাস্তার কাজে লাগিয়ে বিল উত্তোলন করেছেন মেম্বার মঙ্গল চন্দ্র সরকার। ফলে রাস্তার ইট তুলে নেয়ায় এলাকার মানুষ বর্ষা মৌসুমে চরম বিপদে পড়েছেন, এবং বর্তমানে যানবাহন নিয়ে চলাচলেও ভোগান্তিতে রয়েছেন।
ভুক্তভোগি বাবুরাম মন্ডল জানান, উঃ গাইয়াখালী ব্রীজ হতে হাঁসখালী প্রাইমারী স্কুলের সামনে দিয়ে চলে যাওয়া প্রায় ১ কিঃমিঃ রাস্তার অধিকাংশ ইট মেম্বার তারক চন্দ্র সরকার আইনকে তুয়াক্কা না করে উঠিয়ে নিতে ছিলেন। গ্রামবাসী বাধা দিলে শোনেননি। তিনি জানান, উঠানো ইটদিয়ে অন্যত্র কাজ করবেন, পরে এই রাস্তা ঠিক করে দেয়া হবে। কিন্তু মেম্বার উঠিয়ে নেয়া ইট আত্মসাৎ করেছেন, ফলে বর্ষা মৌসুমে রাস্তার মাটি ধুয়ে নষ্ট ও নীচু হয়ে গেছে। এলাকাবাসী জানতে চায়, কার অনুমতি নিয়ে সরকারি রাস্তার ইট উঠিয়ে নেয়া হলো, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তায় মাটির কাজ ও ইটের কাজ কে করবে। সাথে সাথে অভিযোগ তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ ও রাস্তা পুনঃ নির্মাণ করে জনভোগান্তি দূর করতে জোর দাবী জানান তিনি।
স্থানীয় ভক্ত কুমার বৈরাগী জানান, রাস্তাটি হেরিংবন্ড ছিল। ইট তুলে মেম্বার আত্মসাৎ করায় জনভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে হাঁসখালী স্কুল থেকে তারিকের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সরকারি বরাদ্দ ছিল, কাবিটা প্রকল্পের। কিন্তু মেম্বার বরাদ্দের নতুন ইট ব্যবহার না করে অন্য রাস্তা থেকে অবৈধভাবে ইট তুলে কিছু ইট এখানে পাতিয়ে দিয়ে এবং স্কুলের মাঠে উঠানো বালি ব্যবহার করে ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকার বিল তুলে নিয়েছেন। তারা এর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।
স্থানীয় আরো অনেকে মেম্বারের পোষা ব্যক্তিদের ভয়ে ভীত হয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মেম্বারের ইট তুলে আত্মসাৎ, কাবিটা কর্মসূচির কাজে সরকারি রাস্তার ইট নিয়ে অবৈধ ব্যবহারসহ নানান অপকর্মের অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা উপজেলা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবী জানান।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য মঙ্গল চন্দ্র সরকারের সাথে কথা বলা হলে তিনি ইট আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন