প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ আট মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। পদ্মা নদীর তলদেশে স্থাপিত সাবমেরিন ক্যাবল ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে ইউনিয়নের প্রায় দেড় হাজার পরিবার চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে এবং ফ্রিজ, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পদ্মাবেষ্টিত দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। আট মাস আগে ক্যাবলটি ছিঁড়ে যাওয়ার পর পুরো ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিকল্প সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি করেছে।
নন্দলালপুর গ্রামের বাসিন্দা নয়ন শেখ জানান, "আট মাস ধরে তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। দৈনন্দিন নানা কাজে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে। গরমেও কষ্ট করতে হচ্ছে তাদের।" তিনি অবিলম্বে বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর দাবি জানান।
একই গ্রামের আবুল হোসেন বলেন, "বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। টেলিভিশন, ফ্রিজসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা যাচ্ছে না। আট মাস ধরে এভাবে চলতে থাকায় তারা খুব কষ্টে আছেন।" তিনি দ্রুত সমস্যার সমাধান করে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন বলেন, "সাবমেরিন ক্যাবল ছিঁড়ে যাওয়ায় ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।"
সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন জানান, তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে নদীর তলদেশে ক্যাবল লাইনে সংযোগ দিতে বিলম্ব হচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর বিষয়ে তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর দোহার জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) খায়রুল বাকী খান বলেন, "বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য স্থাপিত সাবমেরিন ক্যাবলটি অনেক পুরোনো হওয়ায় পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। নদীর তলদেশে প্রবল স্রোত থাকায় আপাতত নতুন করে ক্যাবল স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে নতুন সাবমেরিন ক্যাবলের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে নতুন করে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন