প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইথিওপিয়ার ফেডারেল বাহিনী এবং তাদের সহযোগীরা ইরিত্রিয়ার সীমান্তবর্তী একটি শহরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে নতুন সংঘাতের উদ্ভব ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বুধবার, সরকারপন্থী এক মিলিশিয়া কমান্ডার এবং স্থানীয় এক বাসিন্দার উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
ইথিওপিয়া অভিযোগ করেছে যে, প্রতিবেশী ইরিত্রিয়া বিদ্রোহী গোষ্ঠী তিগ্রাই পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টকে (টিপিএলএফ) সমর্থন করছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর, টিপিএলএফ সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে একটি বড় আক্রমণ চালায়। তবে, পরবর্তীতে তারা পিছু হটে এবং তাদের কিছু শক্ত ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ হারাতে বাধ্য হয়।
একটি বিদেশি নিরাপত্তা সূত্রের মতে, বিদ্রোহীদের সহায়তা করার জন্য ইথিওপিয়ার ভূখণ্ডে ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার ইরিত্রিয়ান সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে, তাদেরও পিছু হটতে হয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারপন্থী মিলিশিয়ার একজন সদস্য এএফপিকে জানান, ইরিত্রিয়ার সীমান্তবর্তী জালামবেসা শহর থেকে দেশটির সেনারা সরে গেছে।
জালামবেসা শহরটি ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার সীমান্তের নিকটবর্তী অবস্থিত। ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধের সময় শহরটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রণক্ষেত্র ছিল। সীমান্তবর্তী এলাকায় সেনাদের অগ্রসর হওয়া এবং সামরিক কার্যক্রম বৃদ্ধির কারণে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হবে কিনা, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
ইথিওপিয়ার ফেডারেল বাহিনী এবং তাদের সহযোগীরা ইরিত্রিয়ার সীমান্তবর্তী জালামবেসা শহরের নিকটবর্তী পৌঁছেছে। অন্যদিকে, শহরটির উত্তর উপকণ্ঠে ইরিত্রিয়ার সেনারা অবস্থান করছে। এই অবস্থায় দুই দেশের মধ্যে নতুন যুদ্ধের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে, সরকারপন্থী এক মিলিশিয়া সদস্য এএফপিকে জানান, জালামবেসার নিকটবর্তী গ্রামগুলো সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে, তিনি দাবি করেন যে, কোনো ইথিওপীয় সেনা ইরিত্রিয়ার ভূখণ্ডে প্রবেশ করেনি। জালামবেসার এক বাসিন্দা জানান, ইথিওপিয়ার সেনারা শহরটির প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দক্ষিণে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, ইরিত্রিয়ার সেনারা শহরটির উত্তর উপকণ্ঠে অবস্থান করছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন যে, শহরটি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে।
তবে, ইরিত্রিয়ার তথ্যমন্ত্রী ইয়েরমানে গেব্রেমেস্কেল এএফপিকে বলেন, ইথিওপীয় সেনাদের সীমান্ত অতিক্রম করার খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ইথিওপিয়ার সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
এর আগে, চলতি মাসের শুরুতে, তিগ্রাই অঞ্চলের রাজধানী মেকেলে থেকে কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই সরে যায় টিপিএলএফ। উত্তর তিগ্রায় বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন ইরিত্রিয়ার সেনাদেরও ড্রোন হামলার মুখে পিছু হটতে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে, ইথিওপিয়ার সরকারপন্থী বাহিনী ইরিত্রিয়ার সীমান্তের নিকটবর্তী শায়ার ও আকসুমের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে প্রবেশ করেছে। এদিকে, টিপিএলএফের সহসভাপতি আমানুয়েল আসেফা এএফপিকে বলেছেন, ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠীকে নিয়ে গঠিত সামরিক জোট সফল হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, চলমান লড়াই আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসও সতর্ক করেছে যে, এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
ইরিত্রিয়া ১৯৯৩ সালে ইথিওপিয়ার কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সীমান্তযুদ্ধ হয়। পরবর্তীতে, ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি ঘটে। তবে, তিগ্রাই সংঘাতের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্ক আবারও অবনতি হয়েছে।
ইরিত্রিয়ার অভিযোগ, স্থলবেষ্টিত ইথিওপিয়া চলমান সংঘাতকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে দেশটির ভূখণ্ডে হামলা চালাতে এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ আসাব বন্দর দখল করতে পারে। তবে, এ বিষয়ে ইথিওপিয়ার পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন