প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি জার্মানিকে বরাবরই এমন একটি দল হিসেবে দেখা হয়, যারা যেকোনো ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলে তাদের প্রতিপক্ষের প্রতি কোনও ধরনের করুণা প্রদর্শন করে না। তাদের অতীতের ইতিহাসে প্রতিপক্ষকে বড় ব্যবধানে হারানো এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজেদের একটি অসাধারণ শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার ঘটনাগুলি রয়েছে অসংখ্য।
বর্তমান বিশ্বকাপেও জার্মানি সেই ধারাবাহিকতার প্রতীক হিসেবে নিজেদের পরিচয় প্রদর্শন করেছে। প্রথম ম্যাচে কুরাকাওকে তারা ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে দারুণভাবে সূচনা করেছে দলটি। এই জয়ের ফলে অনেকের মনে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক রাতের স্মৃতিটি আবার সামনে আসে, যেখানে সেমিফাইনালে তারা স্বাগতিক ব্রাজিলকে একই ব্যবধানে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল।
কিন্তু জার্মান ফুটবলের গৌরবগাঁথার আড়ালে এক বেদনাদায়ক অধ্যায়ও লুকিয়ে আছে। এটি হচ্ছে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরাজয়ের রেকর্ড, যা এখনো বহন করে ওই দলটি।
ঘটনাটি ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপের। ২০ জুন সুইজারল্যান্ডের বাসেলে অনুষ্ঠিত এক ম্যাচে তৎকালীন পশ্চিম জার্মানি শক্তিশালী হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে মুখোমুখি হয়েছিল। সেই সময় হাঙ্গেরিকে বিশ্বের অন্যতম সেরা দল বলেই পরিচিতি ছিল। এই দলে কিংবদন্তি ফুটবলার সান্দোর কোচিস এবং জোলতান চিবোরও ছিলেন।
ম্যাচজুড়ে অত্যন্ত দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় হাঙ্গেরি। জার্মান রক্ষণের সীমান্ত ভেঙে তারা একের পর এক গোল করে এগিয়ে যেতে থাকে। শেষ পর্যন্ত তারা ৮-৩ গোলের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে জার্মানির সবচেয়ে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের ঘটনা।
কিন্তু এখানেই গল্প শেষ হয়নি। মাত্র দুই সপ্তাহ পর, বিশ্বকাপের ফাইনালে ফের একবার মুখোমুখি হয় দুই দল। টানা ৩০ ম্যাচে অপরাজিত হাঙ্গেরিকেই তখন শিরোপার জন্য সবচেয়ে বড় দাবিদার হিসেবে দেখা হয়েছিল। ফাইনালের শুরুতে তারা ২-০ গোলে এগিয়েও যায়।
কিন্তু এরপরই ঘটে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। দুর্দান্ত লড়াইয়ে পশ্চিম জার্মানি ম্যাচে ফিরে আসে এবং ৩-২ গোলে জয় তুলে নেয়। সেই জয়ের মাধ্যমে তারা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিল।
ফুটবল ইতিহাসে ম্যাচটি আজও ‘বার্নের অলৌকিক ঘটনা’ হিসেবে পরিচিত। একই টুর্নামেন্টে ৮-৩ গোলের লজ্জাজনক হার থেকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার এই অসামান্য কীর্তি বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম নাটকীয় অধ্যায় হিসেবে স্মরণ করা হয়ে থাকে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন