প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সিলেটে চির বিদায় নিতে হয়েছে তিন বন্ধুদের, গোয়াইনঘাট বাসী শোকে মাতম করছে। পৃথিবী থেকে বিদায় নিবার কিছু ঘণ্টা আগে পর্যন্ত তারা ছিল একই বেঞ্চের সহপাঠী এবং একই স্বপ্নের পথে চলা। একসঙ্গে তারা পরীক্ষা দিয়েছে এবং গল্প-আড্ডায় মেতেছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, তাদের তিনজনকেই একসঙ্গে বিদায় নিতে হলো। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো জাফলং আমির মিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির তিন শিক্ষার্থী সাকিব আহমদ (১৬), রায়হান আহমেদ (রাহুল) (১৬) এবং জয় আহমদ (১৬)-এর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তাদের অকাল মৃত্যুতে গোয়াইনঘাটের পুরো পরিবেশ শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। সোমবার (৬ জুলাই ২০২৬ইং) একসঙ্গে তিন বন্ধুর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তাদের দাফন করা হয়।
রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে তারা চলমান পরীক্ষার শেষে বেড়াতে গিয়ে জাফলং ইউনিয়নের রাধানগর-বাউরভাগ চা বাগান সড়কে তাদের বহনকারী মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের গাছের সঙ্গে শক্তিতে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত এই তিন শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন অবস্থায় একটি একটি করে মারা যায়।
নিহতদের মধ্যে সাকিব উপজেলার নয়াবস্তি গ্রামের মহরম মিয়ার ছেলে, রায়হান ছৈলাখেল গ্রামের হাবিবুর রহমান (হবি) মিয়ার ছেলে, এবং জয় লাখেরপাড় গ্রামের আব্দুল রাজ্জাক মিয়ার ছেলে। পৃথক জানাজার পরে তাদের নিজ নিজ সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
সোমবার (৬ জুলাই ২০২৬ইং) দুপুরে নিহতদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক একটি দৃশ্য। উঠোনজুড়ে স্বজনদের কান্না এবং ঘরের ভেতরে সন্তানহারা মায়েদের আহাজারিতে যেন বাতাসও ভারী হয়ে উঠেছে। কেউ তাদের ছেলের স্কুলব্যাগ বুকে জড়িয়ে কান্না করছে, কেউ বার বার বলছে, একটি বার ফিরে আয় বাবা, আরেকবার মাকে ডেকে যা। এক মায়ের আর্তনাদ, সকালে হাসিমুখে পরীক্ষা দিতে গিয়ে সন্ধ্যায় আমার বুক খালি করে ফিরে এলো। অন্য এক মা ছেলের ছবি বুকে চেপে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন, সেই কান্না শুনে উপস্থিত অনেকের চোখও অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল।
পারিবারিক সূত্র জানাচ্ছে, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই এই তিন বন্ধুর মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। স্কুল, খেলাধুলা কিংবা অবসরের প্রতিটি মুহূর্তে তারা ছিল একে অপরের ছায়াসঙ্গী। এবং এখন তারা পাশাপাশি কবরের নীরব বাসিন্দা। সাকিবের বাবা মহরম মিয়া বলেছেন, ‘আমার ছেলে খুব শান্ত-স্বভাবের ছিল। তাকে নিয়ে ছিল অনেক স্বপ্ন। আল্লাহ আমার বুকটাই খালি করে দিয়েছেন। বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ যে কত ভারী, তা সকলেই বুঝবে।’
রায়হানের বাবা হাবিবুর রহমান (হবি) মিয়া বলেন, ‘সাকিবের মৃত্যুর খবরেই আমরা ভেঙে পড়েছিলাম। তখনও আশা ছিল যে আমার ছেলে হয়তো ফিরে আসবে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর সেই আশাটিও শেষ হয়ে গেল। সকালে পরীক্ষা দিতে বের হওয়া ছেলেটা জীবিত ফিরে আসেনি।’ জয় এর বাবা রাজ্জাক মিয়া বলেছেন, ‘তিন বন্ধু সব সময় একত্রে চলাফেরা করত। কখনো ভাবিনি, আল্লাহ তাদের একসঙ্গে নেবেন। এখন তিনটি পরিবার একই শোক বহন করছে।’
এ ঘটনায় জাফলং আমির মিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা এটি একটি অপূরনীয় ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সহপাঠীদের মধ্যে নূর হোসেনসহ অনেকেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছেন, ‘এক বেঞ্চের তিন বন্ধু এভাবে চলে যাবে, আমরা কখনো ভাবিনি।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন