প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরির একটি পোস্টে উঠে এসেছে সমাজের দ্বিচারিতা ও ন্যায়বিচার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
একজন শিক্ষক মাদ্রাসার ছাত্রীকে চুমু দেওয়ার অভিযোগের পর এক বডিবিল্ডারের থাপ্পড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেকে বলতে শুরু করেছেন—দেশে আইন আছে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়। নিঃসন্দেহে, অপরাধের বিচার আইন অনুযায়ী হওয়া উচিত; কাউকে নিজের হাতে শাস্তি দেওয়ার অধিকার কারও নেই।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, মসজিদের ইমাম মাওলানা রঈস উদ্দিন যখন কথিত মব ভায়োলেন্সের শিকার হয়ে নির্মমভাবে নিহত হয়েছিলেন, তখন এই একই কণ্ঠগুলো কোথায় ছিল? তখন কি আইনের শাসন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের কথা সমানভাবে উচ্চারিত হয়েছিল?
আইনের শাসন কি সবার জন্য সমান নয়?
একটি ঘটনায় আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রতিবাদ করা হবে, আরেকটি ঘটনায় নিরপরাধ বা অভিযুক্ত—যে-ই হোক, জনতার হাতে সহিংসতার শিকার হলে নীরব থাকা হবে—এমন দ্বিমুখী অবস্থান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরির বক্তব্যের মূল প্রশ্নটি তাই গুরুত্বপূর্ণ: অন্যায়ের প্রতিবাদে আমাদের নীতি কি ব্যক্তি, পরিচয় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলে যায়?
মনে রাখতে হবে, অভিযোগের বিচার করবে আইন ও আদালত; উন্মত্ত জনতা নয়। মব ভায়োলেন্স কখনো ন্যায়বিচার নয়, আর নীরবতা কখনো অন্যায়ের সমাধান নয়।
“উন্মত্ত জনতার সুনির্দিষ্ট মস্তিষ্ক কিংবা বিবেক থাকে না”—এই কথাটির তাৎপর্য হলো, আবেগের বশে জনতার হাতে বিচার তুলে দিলে নিরপরাধ মানুষের জীবনও বিপন্ন হতে পারে।
আমরা চাই, প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হোক, অপরাধী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী শাস্তি হোক এবং মব সহিংসতায় জড়িতদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হোক। ন্যায়বিচার নির্বাচিতভাবে নয়—সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন