প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিপথগামী যুবসমাজকে আলোর পথে ফেরাতে ইসলামি অনুশাসন অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।
তিনি উল্লেখ করেছেন, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ইসলামি অনুশাসনের গুরুত্ব অপরিসীম। সমাজে বিরাজমান বিশৃঙ্খলা দূর করে শান্তিময় পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পবিত্র কুরআনের নির্দেশনা ও নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহর আলোকে সমাজ গঠন করা প্রয়োজন। মসজিদ-মাদ্রাসায় ইসলামি বিশেষজ্ঞ আলেমদের বক্তব্য আদর্শবান ও বিশ্বাসী মানুষ গড়তে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে দাউদকান্দি উপজেলার আটিপাড়া দারুল উলুম নূরানীয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. খন্দকার মারুফ পবিত্র কুরআনের সূরা মায়েদার ৯০ ও ৯১ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন, আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনগণ! এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য নির্ধারক শর—এসব শয়তানের অপবিত্র কাজ এবং এগুলো থেকে বেঁচে থাক, যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও। শয়তান তো চায়, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করে দিতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও নামাজ থেকে বিরত রাখতে। অতএব, তোমরা কি এগুলো থেকে বিরত থাকবে না?’
তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামের পণ্ডিত ব্যক্তিগণ মসজিদের মুসল্লি ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদক তথা হারাম বস্তু সম্পর্কে কুরআন-হাদিসের নির্দেশনা উপস্থাপন করলে মানুষ অনেক বেশি সোচ্চার হবে।’
ড. খন্দকার মারুফ বলেন, ‘ভাবতে কষ্ট হচ্ছে, শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে হালাল পণ্যের মতো অবাধে ইয়াবাসহ বিভিন্ন নামের মাদকদ্রব্য অবাধে বেচাকেনা হচ্ছে। কোনো রাখঢাক নেই। মাদকের মরণ নেশা থেকে যুবক ও কিশোরদের ফেরাতে হবে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘মাদকাসক্ত যুবসমাজ কখনো দেশ ও জাতির কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। এরা সমাজের কলঙ্ক, বোঝা। মাদককে সবাই ‘না’ বলুন। সামাজিকভাবে এদের বয়কট করুন। আইনশৃঙ্খলার উন্নতি এবং দেশের সমৃদ্ধির জন্য নেশাগ্রস্তরা মারাত্মক অন্তরায়। বিপথগামী যুবক ও কিশোরদের ইসলামের আলোর পথে ফেরাতে হবে, তাহলেই জাতি দ্রুত শান্তি, শৃঙ্খলা ও সমৃদ্ধির দিকে সহজে এগিয়ে যাবে।’
ড. খন্দকার মারুফ বলেন, ‘আমরা নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মত হয়ে অত্যন্ত গর্ববোধ করি। ইসলাম মাদক তথা নেশাদ্রব্যকে হারাম করেছে। মাদক কখনো মুসলমান সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। মাদকের আশঙ্কাজনক বিস্তার খুবই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার।’ মুসলিম ও তিরমিজি শরিফে বর্ণিত বিভিন্ন হাদিস উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, নেশা সৃষ্টিকারী প্রতিটি বস্তু হারাম। নবীজি আরও বলেছেন, যে বস্তু বেশি নেশা সৃষ্টি করে, তা পরিমাণে কম হলেও হারাম।’
মাদকের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি নেতা খন্দকার মারুফ বলেন, ‘ভয়াবহ মাদকের মরণ ছোবল থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে হবে। সকল শ্রেণির মানুষকে মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভূমিকা রাখতে হবে। আসুন, আমরা মাদকসেবী ও মাদক কারবারীদের বর্জন করি। মাদকের ব্যবহার ও কেনাবেচা বন্ধ করে আলোকিত সমাজ গঠন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।’
তিনি কিশোর গ্যাংয়ের ভয়াবহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দেন এবং তা দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের অভিজাত শ্রেণির মানুষকে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দাউদকান্দি পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পিটার চৌধুরী, বিএনপি নেতা কাজী শাহীনুর, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক শরীফ চৌধুরী, দাউদকান্দি যুবদলের সদস্য সচিব রোমান খন্দকার, বিএনপি নেতা আলী আকবর, ইব্রাহীম খলিল ও ইয়াকুব আলী প্রমুখ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন