প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক চর্চাকে ধ্বংস করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তান আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান অস্বীকার করা সম্ভব নয়, তবে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচনে ভোট কারচুপির মাধ্যমে তিনি মূলত দেশের গণতান্ত্রিক চর্চাকে ধ্বংসের সূচনা করেছিলেন।
মঙ্গলবার, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর কর্তৃক আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ সেমিনার সিরিজের ‘তিয়াত্তরের নির্বাচন : ভোটচুরির আওয়ামী মডেলের সূচনা’ শীর্ষক পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, তিয়াত্তরের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের পরাজয়ের সম্ভাবনা ছিল না। তবুও তিনি নির্বাচনে কারচুপি করেছিলেন। অন্যদিকে, শেখ হাসিনা জানতেন যে, তাঁর সামনে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল রয়েছে, যাদের সঙ্গে নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তাঁর সরকারের পরাজয় নিশ্চিত ছিল। এই কারণে তিনি ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে নির্বাচনব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছিলেন। অথচ শেখ মুজিব নিশ্চিতভাবে জয়ী হবেন জেনে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচনটাকেই তিনি নষ্ট করেছিলেন।
নির্বাচনব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস হলে সাধারণ নাগরিকের প্রতিবাদ করার বা নিজেদের অধিকার প্রকাশের কোনো সুযোগ থাকে না। অনেকেই বিএনপিকে নিয়ে সমালোচনা করে বলেন যে, দলটি কেবল নির্বাচন নির্বাচন করে। কিন্তু এ ধরনের বক্তব্য মূলত জনগণের ভোটাধিকারকে অস্বীকার করে।
জাতীয় ঐকমত্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিভিন্ন আপত্তি নিয়ে কথা হলেও জুলাই সনদ স্বাক্ষরের সময় দেখা যায়, সেখানে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা দ্বিমত পোষণকারী বিষয়গুলো রাখা হয়নি। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করায় আমরা তাদের স্বাগত জানিয়েছিলাম। কিন্তু তাদের বিদায়ের প্রাক্কালে রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ ছাড়া যে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছিল, তা মূলত পরবর্তী সময়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে বেঁধে দেওয়ার চেষ্টা ছিল।
সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ খান ও গবেষক মাহমুদা হাবীবা প্রমুখ, যাদের সভাপতিত্ব করেন জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহ্সান মাহমুদ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন