প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হাঙ্গেরি সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মানদণ্ডের সাথে সঙ্গতি বজায় রাখতে এবং মানবাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিতর্কিত এলজিবিটিকিউ বিরোধী আইন সংশোধনের জন্য পার্লামেন্টে একটি বিল উত্থাপন করেছে। এই আইনটি সাবেক জাতীয়তাবাদী নেতা ভিক্টর অরবানের শাসনামলে প্রণীত হয় এবং এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনার মুখে রয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নতুন সরকার সংশ্লিষ্ট বিলটি পার্লামেন্টে জমা দেয়। বিলে ২০২১ সালের বিতর্কিত আইন থেকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সমকামিতা বা লিঙ্গ পরিবর্তনের "প্রচার" ও "প্রদর্শন" নিষিদ্ধ করার অংশগুলো বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিবর্তে, নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের শারীরিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, মানসিক বা নৈতিক বিকাশে মারাত্মক ক্ষতি সাধন করতে পারে—এমন উপাদানের ক্ষেত্রে সর্বজনীন নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
বর্তমান রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী পিটার ম্যাগিয়ার জানান, এই নিয়মগুলো "যেকোনো যৌন পরিচয়ের ঊর্ধ্বেই প্রযোজ্য হবে" এবং এটি দেশকে ইইউ-এর মানদণ্ডের সাথে মানিয়ে নিতে সহায়তা করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অপ্রাপ্তবয়স্কদের সামনে যৌন সহিংসতা, ম্যানিপুলেশন ও শোষণের প্রচার বরদাশত করা হবে না।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে ভিক্টর অরবানের সরকার শিশু সুরক্ষার অজুহাতে এই আইনটি পাস করে, যার মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্কদের মাঝে সমকামিতা সম্পর্কিত তথ্য প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তীতে এই আইনের অজুহাতে প্রাইড মার্চও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের এপ্রিলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ আদালত (ইসিজে) এক রায়ে জানায়, এই আইনটি ব্লকের মূল নীতি ও মানবাধিকারের পরিপন্থী।
এরপর, এপ্রিলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দীর্ঘ ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকা অরবানকে পরাজিত করে পিটার ম্যাগিয়ার ক্ষমতায় আসেন। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এই আইনি পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও, সমলিঙ্গের দম্পতিদের সন্তান দত্তক নেওয়ার ওপর থাকা বিধিনিষেধ শিথিল করার বিষয়টিও হাঙ্গেরি সরকার বিবেচনা করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন