প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বৃহত্তর নোয়াখালীর প্রধান বাণিজ্যিক শহর চৌমুহনী ক্রমশ অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হচ্ছে। এখানে চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও জবরদখলের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত এবং গোলাগুলি প্রতিদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহরের আবাসিক হোটেলগুলো বিশেষ করে অপরাধচক্রের নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।
অনুসন্ধানের মাধ্যমে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে চৌমুহনীর বেশ কিছু আবাসিক হোটেলে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে অবাধে চলছে দেহব্যবসা, মাদক কেনাবেচা ও জুয়ার আসর।
হোটেলগুলোতে আগতদের তথ্য রেজিস্টারে নথিভুক্ত করার নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। এর ফলে অপরাধীরা সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে। এমনকি স্কুল-কলেজপড়ুয়া তরুণ-তরুণীদেরও এসব হোটেলে যাতায়াত করতে দেখা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে এসব আস্তানায় বেশ কিছু সফল অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
গত ১২ সেপ্টেম্বর চৌমুহনী বাজারের ‘ডিলাক্স’ ও ‘রাজ’ আবাসিক হোটেল থেকে ১৮ জন এবং ৩০ আগস্ট ‘মিয়ামী’ ও ‘স্কাইভিউ’ হোটেল থেকে আট নারী-পুরুষকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এর আগে ২৫ জুন ‘হোটেল রাজ’ থেকে আরো ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুধু অনৈতিক কর্মকাণ্ডই নয়, গত ২ জানুয়ারি ‘হোটেল রিয়াদ’ থেকে বিদেশি পিস্তল ও কার্তুজসহ বাসু ও রাসেল নামের দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এবং স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে বছরের পর বছর এ বেআইনি কর্মকাণ্ড চলছে। কোনো পর্যটনকেন্দ্র না থাকা সত্ত্বেও কেন এখানে এত আবাসিক হোটেলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছে।
চৌমুহনী নোয়াখালী-৩ আসনের নির্বাচনি এলাকার স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা জানান, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ বাণিজ্যিক শহরে প্রতিদিন হাজারো মানুষ আসেন। শহরটিকে বাঁচাতে এখনই আবাসিক হোটেলগুলোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আনা এবং কিশোর গ্যাং ও মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা প্রয়োজন।
অভিযানের বিষয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি শামসুজ্জামান বলেন, ‘নোয়াখালী ডিবি ও বেগমগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। শহরের নিরাপত্তা ও নজরদারি আরো বাড়ানো হয়েছে এবং দ্রুতই বড় ধরনের অভিযান চালানো হবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন