প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের মজুদ বর্তমানে আশঙ্কাজনক নিম্নপর্যায়ে পৌঁছেছে বলে সতর্কবার্তা প্রদান করেছেন সৌদি আরামকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আমিন নাসির। তিনি উল্লেখ করেন, যদি হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণরূপে পুনরায় চালু না হয়, তাহলে বিশ্ব জ্বালানি বাজার আরও একটি সরবরাহ সংকটের মুখোমুখি হবে। লন্ডনে অনুষ্ঠিত ‘এনার্জি ইন্টেলিজেন্স ফোরাম ২০২৬’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, "মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে খালি হয়ে যাওয়া তেলের বিশ্ব মজুদ আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।"
আমিন নাসির আরও বলেন, বড় অর্থনীতির দেশগুলোর কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে জরুরি ভিত্তিতে তেল ছেড়ে দেওয়া সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, তবে এটি বিশ্ব জ্বালানি বাজারের সরবরাহ ও চাহিদার অন্তর্নিহিত ভারসাম্যহীনতা দূর করতে সক্ষম হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, "যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে টানা সাত মাসের যুদ্ধে এই অঞ্চলে প্রায় ৩ বিলিয়ন (৩০০ কোটি) ব্যারেল তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। যা ওই সময়কালে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন হওয়া মোট অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত পণ্যের প্রায় অর্ধেকের সমান।"
আরামকো প্রধান জানান, "সরবরাহ ঘাটতির প্রভাব সামাল দিতে তেলের বাণিজ্যিক মজুদ থেকে ১ বিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি তেল তুলে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সরকার তাদের কৌশলগত রিজার্ভ থেকে ৩০০ মিলিয়ন (৩০ কোটি) ব্যারেল তেল বাজারে ছেড়েছে এবং আরও অতিরিক্ত তেল ছাড়ার বিষয়ে চুক্তি হয়েছে।"
তিনি জানান, তেলের এই ঘাটতি মেটাতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে তেল কোম্পানিগুলোর নিজস্ব মজুদ, যাকে তিনি বাজারকে টিকিয়ে রাখার "সর্বশেষ প্রধান হাতিয়ার" হিসেবে বর্ণনা করেন।
আমিন নাসির জানান, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যে পরিমাণ বাণিজ্যিক মজুদ অবশিষ্ট রয়েছে তা ৬ বিলিয়ন ব্যারেলের নিচে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, "এই মজুদের অধিকাংশ পরিমাণই তাৎক্ষণিক ব্যবহারের জন্য ব্যবহারিক অর্থে সহজলভ্য নয়।"
তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছে। বাজারে আর খুব বেশি বিকল্প অবশিষ্ট না থাকায় সরবরাহের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার মতো নিরাপত্তাসীমা এখন অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়েছে।
নাসির আরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন যে, স্যাটেলাইট চিত্র এবং জাহাজের চলাচলের উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডারের মতো আধুনিক প্রযুক্তিগুলোকে এখন জ্বালানি অবকাঠামো ও তেলবাহী ট্যাংকারকে নিশানা করার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজসহ আরামকোর পাইপলাইন, শোধনাগার এবং বন্দরে হামলা চালানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, "তথ্য প্রকাশের এই স্বচ্ছতার মাধ্যমগুলোকে কোনোভাবেই আগ্রাসনের হাতিয়ার বানাতে দেওয়া উচিত নয়।"
আরামকো প্রধান জোর দিয়ে বলেন, উত্তর সাগরের অপরিশোধিত তেলের দাম এপ্রিলে শেষ হওয়া সময়সীমার পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাজার এখনো সরবরাহের ভয়াবহ ঘাটতি এবং অতিরিক্ত পরিবহন খরচের খেসারত দিচ্ছে।
তিনি স্পষ্ট জানান, সংঘাত শেষ হওয়ার পর স্বাভাবিক চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি তেলের মজুদ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে। তাই বিশ্বের সব দেশের সরকারকে জ্বালানি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
আমিন নাসির জানান, সরবরাহ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে কোনো বিঘ্ন ঘটলে গ্রাহকদের সুরক্ষা দিতে আরামকো সৌদি তেলের জন্য বিকল্প রপ্তানি পথ খোঁজার পাশাপাশি দেশের বাইরে তেলের মজুদাগার বা স্টোরেজ সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন