প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্স সম্প্রতি হ্যাকারদের দ্বারা চুরি হওয়া সম্পদের ৯৫ শতাংশ টোকেন কিনে গ্রাহকদের হিসাবের ঘাটতি পূরণ করেছে। এই চুরির পরিমাণ প্রায় ৬৩০ কোটি ডলার, এবং বাকি ৫ শতাংশ সম্পদের ঘাটতি পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাইন্যান্স। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই হামলার জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছে।
গত ২৯ অক্টোবর, বাইন্যান্সের হট ওয়ালেট থেকে প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি হয়ে যায়। এফবিআই জানায়, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট হ্যাকার গোষ্ঠী ‘ট্রেডারট্রেইটর’ এই ঘটনায় জড়িত। উল্লেখ্য, গোষ্ঠীটি ২০২৫ সালে ক্রিপ্টো বিনিময় প্ল্যাটফর্ম বাইবিট থেকে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের সম্পদ চুরির সঙ্গেও যুক্ত ছিল।
এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, হ্যাকাররা চুরি হওয়া বিটকয়েন, ইথেরিয়াম, টেথার ও ইউএসডিসি সহ বিভিন্ন ক্রিপ্টো সম্পদ মূলত ইথেরিয়ামে রূপান্তর করেছে। এসব সম্পদ বিভিন্ন বিকেন্দ্রীভূত অর্থায়ন সেবা ও তাৎক্ষণিক বিনিময় মাধ্যম ব্যবহার করে সরানোর চেষ্টা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। লেনদেন শনাক্ত হলে তা আটকে রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছে এফবিআই।
বাইন্যান্স জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে তাদের এক প্রকৌশলীর ল্যাপটপ আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি সামনে এলেও পরে নিরাপত্তাব্যবস্থার আরো কয়েকটি জায়গায় অনুপ্রবেশের তথ্য পাওয়া যায়। তবে ওয়ালেটের ব্যক্তিগত চাবি বা প্রাইভেট কি ফাঁস হওয়ার কোনো প্রমাণ মেলেনি।
গ্রাহকদের আর্থিক ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দিতে নিজস্ব তহবিল থেকে ৬৩৪ কোটি ডলারের বেশি অর্থ সংরক্ষণের কথা জানিয়েছে বাইন্যান্স। ৩১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের ৯০ শতাংশের সমপরিমাণ টোকেন কিনে গ্রাহকদের হিসাবের বিপরীতে সংস্থান করা হয়েছে। সর্বশেষ ১ নভেম্বরের হালনাগাদে এ হার ৯৫ শতাংশে উন্নীত হওয়ার কথা জানানো হয়। বাকি ৫ শতাংশ তুলনামূলক কম লেনদেন হওয়া টোকেন, যা বাজার থেকে সংগ্রহ করা কঠিন।
তবে এখানে পুনরুদ্ধার বলতে হ্যাকারদের কাছ থেকে চুরি হওয়া সম্পদ উদ্ধার বোঝায় না। বরং গ্রাহকদের ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের সমপরিমাণ টোকেন নিজেদের অর্থে কিনে হিসাবের ঘাটতি পূরণ করেছে বাইন্যান্স। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রধান নির্বাহী রিচার্ড টেং জানিয়েছেন, অবশিষ্ট ঘাটতিও বাইন্যান্স নিজেই পূরণ করবে। গ্রাহকদের এই ক্ষতির দায় নিতে হবে না।
ঘটনার পর সাময়িকভাবে অর্থ উত্তোলন বন্ধ রেখেছিল বাইন্যান্স। ১ নভেম্বর থেকে ধাপে ধাপে বিটকয়েন, ইথেরিয়ামসহ বিভিন্ন ক্রিপ্টো সম্পদ উত্তোলনের সুযোগ চালু করা হয়েছে। তবে সব সম্পদের উত্তোলন একসঙ্গে চালু হয়নি। সূত্র : এফবিআই, বাইন্যান্স ও রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন