প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশটির রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তাল হয়ে উঠেছে। এই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বলিপাড়া দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক মাস আগে ছাত্রবিক্ষোভের ফলে পুরো দেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। সেই সময় শিক্ষার্থীদের সমর্থনে সেলিব্রিটিদের পক্ষ থেকে ব্যাপক সমর্থন দেখা গিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন। বেশিরভাগ তারকা বিতর্ক থেকে নিজেদের দূরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে, কিছু সংখ্যক তারকা তাদের মতামত প্রকাশ করেছেন। এর ফলে বলিউডের মধ্যে একটি আড়াআড়ি বিভাজন ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। এর আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনে ছাত্রদের দাবি মেনে নেওয়ার পক্ষে একাধিক তারকা প্রকাশ্যে এসেছিলেন। দীর্ঘস্থায়ী বিক্ষোভের পর, দেশের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান শেষ পর্যন্ত ইস্তফা দিয়েছিলেন।
এখন সেই আন্দোলনের মূল কেন্দ্র ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আবারও দেশজুড়ে বিক্ষোভে নেমেছে। তাদের দাবি, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। এই দাবি শুধু সিজেপির বিক্ষোভেই সীমাবদ্ধ নয়, দেশের একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দলও নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবিতে রাস্তায় নেমেছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকেও বিক্ষোভ ও আন্দোলন থামানোর জন্য বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে সিজেপির বিক্ষোভের ডাকের সমালোচনা করেছেন অভিনেতা রণবীর শৌরে। তিনি বলেন, "নিজেদের দাবিদাওয়া তুলে ধরতে রাস্তায় বিক্ষোভের বদলে আদালত, সংসদসহ অন্যান্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নেওয়া উচিত।"
রণবীর আরও বলেন, "রাস্তা নিজেদের দখলে নিয়ে সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করা এবং সরকারি পরিকাঠামো ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ব্যবস্থাকে অচল করে দেওয়াই আসলে ‘গণতন্ত্রের হত্যা’।" এই আন্দোলনকে সমালোচনা করে অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত বিক্ষোভকারীদের ‘দেশবিরোধী’ তকমা দিয়েছেন।
অন্যদিকে, অভিনেতা বিজয় ভার্মা ও অভিনেত্রী হুমা কুরেশি আন্দোলনের পক্ষে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছেন। বিজয় সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট রি-শেয়ার করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে— জ্ঞানেশ কুমারের গদি বাঁচাতে কেন্দ্রীয় সরকার অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে। হুমা কুরেশি আবার বিক্ষোভ করতে না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। গত কয়েক দিন ধরে দিল্লিসহ দেশের একাধিক জায়গা থেকে আন্দোলনকারীদের ধরপাকড়ের খবর আসছে। এই প্রেক্ষিতে হুমা বলেছেন, ‘বিশ্বের সব থেকে বড় গণতন্ত্রে নিজেদের দাবি সামনে রেখে বিক্ষোভ করাটাও কিন্তু গণতান্ত্রিক অধিকার।’ স্বানন্দ কিরকিরেও প্রায় একই ধরনের বক্তব্য রেখেছেন।
এদিকে, অভিনেতা আমির খানের ভাইঝি জেন মেরি খানের পোস্ট নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি হাতে–পায়ে একাধিক কালশিটের দাগ দেখিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় মুম্বাই পুলিশ তাকে আটক করেছিল এবং ধাক্কাধাক্কির ফলে তার চোট লেগেছে। তাকে ছাড়াও অভিনেতা ইমরান খান ও তার গার্লফ্রেন্ড লেখা ওয়াশিংটনকেও আটক করা হয়েছিল মুম্বাই পুলিশ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন